ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা নিহত, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

  • ১-Aug-২০১৯ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: সীমানা পেরিয়ে ডেস্ক ::

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা মারা গেছেন।

তবে বেনামী সূত্র থেকে উল্লেখ করা ওই খবরে, হামজা বিন লাদেনের মারা যাওয়ার জায়গা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা কিংবা তার মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। খবর- বিবিসি বাংলা

গত ফেব্রুয়ারিতে তার সম্পর্কে খোঁজ দেয়ার জন্য ১০ লাখ ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

হামজা বিন লাদেন, যার আনুমানিক বয়স ৩০ বছর, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের উপর হামলার আহ্বান জানিয়েছে অডিও এবং ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন।

তার মৃত্যুর খবর প্রথমে আসে এনবিসি এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসে।

গত বুধবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অসম্মতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টনও এবিষয়ে কোন কথা বলেননি।

২০১১ সালে পাকিস্তানে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে নিজের বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে জিহাদিদের আহ্বান জানিয়েছিলেন হামজা বিন লাদেন।

আরব উপত্যকার বাসিন্দাদের বিদ্রোহ ঘোষণা করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। মার্চে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে সৌদি আরব।

ধারণা করা হয় যে, ইরানে গৃহবন্দী ছিলেন তিনি। কিন্তু অন্যান্য অনেক সূত্র মতে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও সিরিয়াতেও তার বসবাসের খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের দাবি, ২০১১ সালে অ্যাবোটাবাদে তার বাবার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে যে নথি জব্দ করা হয়েছে সে অনুসারে আল কায়েদার নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল তার।

এছাড়া আরেক জ্যেষ্ঠ আল কায়েদা নেতার মেয়ের সাথে তার বিয়ের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। বিয়েটি ইরানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

তার শ্বশুর ছিল আব্দুল্লাহ আহমেদ আব্দুল্লাহ বা আবু মুহাম্মদ আল মাসরি। ১৯৯৮ সালে তানজানিয়া এবং কেনিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর হামলার পেছনে জড়িত ছিল আল কায়েদা সংগঠন। তবে গত দশকে আইএস মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে আল কায়েদার নামডাক কমে যায়।

আমেরিকার প্রতি ঘৃণা নিয়ে বেড়ে ওঠা এক ছেলে

বিবিসি নিউজের ক্রিস বাকলার এক বিশ্লেষণে বলেন, হামজা বিন লাদেনের বয়স কত তা বলতে না পারাই প্রমাণ করে যে মার্কিন কর্মকর্তারা তার সম্পর্কে কত কম জানে।

গত কয়েক মাস ধরে তারা এই ধারণা উপর ছিলো যে, সে হয়তো আফগানিস্তান, পাকিস্তান কিংবা ইরানে রয়েছে। কিন্তু তারা কখনোই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি যে ঠিক কোন দেশে আমেরিকার 'মোস্ট ওয়ান্টেড' ব্যক্তিটি লুকিয়ে রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে লাখো ডলারে পুরষ্কার ঘোষণা শুধু তার দ্বারা ভয়াবহ হুমকির মাত্রাকেই বোঝায় না, বরং আল কায়েদায় তার প্রতীকী গুরুত্বও তুলে ধরে।

তার বাবা যখন ৯/১১ এর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন তখন হামজা শিশু ছিল। তবে চরমপন্থী সংগঠনগুলোর তথ্য মতে, সেসময় বাবার পাশেই ছিল সে।

যে ছেলেটি আমেরিকাকে ঘৃণা করতে শেখার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে, তার কাছে বিশেষ বাহিনীর হাতে বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকাটাই স্বাভাবিক।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্র দেশগুলোর উপর হামলার আহ্বান জানিয়ে অনলাইন বার্তা দিয়ে আসছিলেন তিনি।

হামজা বিন লাদেনের মৃত্যুর খবর সঠিক হলে, এটি আল কায়েদার নতুন কণ্ঠস্বরকে থামিয়ে দেবে। তবে এটি বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনাকারী সংগঠনটির হুমকি শেষ করতে পারবে না।

আল-কায়েদা: মৌলিক বিষয়

• ১৯৮০র দশকে আফগানিস্তানে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি যখন আরবের স্বেচ্ছাসেবীরা সোভিয়েত সেনাদের হটাতে মার্কিন সমর্থিত আফগান মুজাহিদিন বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল।

• ওসামা বিন লাদেন এই স্বেচ্ছাসেবীদের সাহায্যে একটি সংগঠন তৈরি করে আল কায়েদা নামে যার অর্থ "ভিত্তি"।

• ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান ছাড়েন তিনি। ১৯৯৬ সালে আবার ফিরে আসেন হাজারো বিদেশি মুসলিম সদস্যদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির চালাতে।

• আমেরিকা, ইহুদী এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে "পবিত্র যুদ্ধ" ঘোষণা করেছিল আল কায়েদা।

Ads
Ads