ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ যেভাবে সম্ভব

  • ১-Aug-২০১৯ ০১:০৮ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: জিএম রফিক ::

একটি বাদে দেশের সব জেলায় ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই নতুন রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে হাসপাতালগুলোতে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার রাত আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ৪৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই ঢাকার। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন ৯২৮ জন ডেঙ্গু রোগী।

নতুনদের নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ১৮৩ জনে। আগের দিন ১৫ হাজার ৩৬৯ জনের ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম। এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে ভোরের পাতার অনুসন্ধানে ডেঙ্গুতে অন্তত ৪২। বিভিন্ন সূত্র এই মৃতের সংখ্যা পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে বলেও দাবি করা করেছে। এদিকে, ৬২ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

এর মধ্যে সরকারি হিসাবে গতকাল পর্যন্ত দেশের ১টি জেলা বাদে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল। জয়পুরহাট, বরগুনা, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী না থাকার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল ১০ জন ও বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল। সে হিসাবে ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলাতেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এমন রোগী পাওয়া গেছে, যারা গত কয়েক মাসেও ঢাকায় আসেনি।

এর আগে দেখা গিয়েছিল, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ ঢাকা থেকে ওই সব এলাকায় গিয়েছিল। এদিকে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সকালে ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক কোহিনুর আক্তার মারা গেছেন। গত সোমবার ও মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারজানা হোসেন ও লিটন। দেশজুড়ে বিস্তৃত এই রোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

বুধবার (৩১ জুলাই) ভোরের পাতার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জি এম রফিকের সাথে এক সাক্ষাতে একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দীন শাহ, পরিবেশ নীতিবিদ্যা ও পরিবেশ দর্শন বিষয়ে পাঠদানকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জি এম তারিকুল ইসলাম দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

একুশে পদক প্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, মনোবিজ্ঞানী, অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেছেন, ‘আমার জীবন আমার আমাকেই নিরাপদ রাখতে হবে। এভাবে সবাই যদি নিজের সম্বন্ধে সচেতন হন, তাহলে সবাই সচেতন হয়ে যাবো। সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সমাজে ব্যক্তি অজ্ঞতা রয়েছে। তার মধ্য থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু অন্য কোন কারণে নয়, বরং অসচেতনতা থেকেই এসেছে।’ ‘ব্যক্তি, পরিবেশ ও সামজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা সচেতন হয়ে উঠলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্তি পাবো। এই মুক্তি সাময়িক মুক্তি নয়, এই মুক্তি হবে সার্বজনীন। ডেঙ্গুকে আর আমাদের দেখতে হবে না।’

কথা সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ‘ঘরের বাইরে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সিটি করপোরেশনের কাজ। আর ঘরের ভেতরের মশা নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সিটি করপোরেশন তো ঘরে ঘরে গিয়ে মশা মারতে পারবে না। তাই নিজের ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিজেকেই করতে হবে।’ তিনি বলেন, মশারি টাঙিয়ে আর কতক্ষণ থাকা যায়! বর্তমান সময়ে আমরা কয়েল জ্বালায়, কেউ স্প্রে করি, আরও অনেক মেডিসিন আছে। কিন্তু মশারি টাঙানোর মতো অবস্থা বা ব্যবস্থা এখন ঘরে কম থাকে। আর সব সময় তো মশারির মধ্যে থাকাটাও সম্ভব নয়। মেয়েদের মায়েদের কাজ আছে। তাদেরকে ব্যস্ত থাকতে হয়।’ মূলত আমাদেরকে সব দিক দিয়ে সচেতন হয়ে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ঘরে বা ছাদে রাখা গাছের টব, এসির নিচে, ফ্রিজের নিচে তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা পানি রাখা যাবে না। এগুলো নিজেদেরকেই মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ জনগণের সচেতনতা এ বিষয়ে খুবই জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘নিজের ঘর ও এর আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখি তাহলে যেখানেই থাকি না কেন আমাদেরকে ফল ভোগ করতেই হবে। এডিস মশা নির্মুলের ব্যাপারে সচেতন না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’

রাজধানীর হাতিরঝিলের জলাশয়ের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই কথা সাহিত্যিক বলেন, ‘এরকম ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে মশার বিস্তার ঘটাই স্বাভাবিক। তাই এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী পদক্ষেপ দরকার। এছাড়াও, সিটি করপোরেশনগুলো যেভাবে ওষুধ ছিটাচ্ছে সেভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ করপোরেশনের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। দুটি করপোরেশন যদি এক সঙ্গে কাজ না করে তাহলে ডেঙ্গুর মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। যদি উত্তর সিটি করপোরেশন মশা মারতে শুরু করে তাহলে মশা দক্ষিণে চলে আসবে। আবার দক্ষিণে মশা মারতে শুরু করলে সেগুলো উত্তরে চলে আসবে। তাই একই সঙ্গে দুটি করপোরেশনে মশা মারা শুরু না করলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।’

‘এডিস অত্যন্ত অভিজাত শ্রেণির মশা। এরা স্বচ্ছ, নির্মল পানিতে ডিম পাড়ে, যে এলাকায় উচ্চ ও মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস বেশি সেই এলাকায় এদেরও বসবাস বেশি। তাই এডিস নির্মূলের দায়ভারটাও উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের উপরেই বেশি বর্তায়।’ রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ দেশে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এডিস মশা নিধনের ব্যাপারে সচেতনতার কাজটি যথাযথভাবে করতে পারলেই ডেঙ্গু রোগ অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’

উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কলিম উল্লাহ বলেন, ‘এবারের ডেঙ্গুর ধরন একটু ভিন্ন। আসলে কিছুদিন আগেও মানুষ মনে করত যে ময়লা, নর্দমাসহ পঁচা জায়গাতেই যে সব মশা ভনভন করে সেগুলোই মানুষকে কামড়ালে মানুষ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এখন ডাক্তাররা মিডিয়ার মাধ্যমে যে ধারণাটি দিচ্ছেন সেটি একেবারেই ভিন্ন কথা। কোনো ময়লা জায়গা, নর্দমা ডেঙ্গুর জন্মদাতা এডিস মশার উৎপত্তিস্থল নয়। এডিস স্বচ্ছ, নির্মল পানিতে ডিম পাড়ে।’ 

এডিসের বর্তমান বিস্তৃতিতে সচেতন থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বড় বড় নির্মাণাধীন দালানকোঠায় এরা স্বচ্ছ পানিতে ডিম ছাড়ে। সেখান থেকেই এদের বংশবিস্তার দ্রুতগতিতে বেড়ে যায়। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের বসবাসকারী মানুষের শরীরে এসব এডিস মশা কামড় দিয়ে যে রক্ত চুষে নেয় তা থেকেই তারা আরো বেশি ভয়ানকভাবে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এই মশা দিনের বেলায় মানুষকে কামড় দেয়। তাই সবাইকে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো প্রয়োজন।’ ‘ডেঙ্গু রোগের বিষয়টিকে হালকা বা সাধারণভাবে নেওয়ার কোনো বাস্তবতাই এখন আর নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটিকে নিয়ে আমাদের দেশেও ব্যাপক গবেষণা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’ 

উপাধ্যক্ষ কলিম উল্লাহ বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে যেতে পারেন, কিন্তু শরীরের ভেতরে নানা ধরনের সংক্রামক ব্যাধি রোগীকে ভয়ানকভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। সুতরাং ডেঙ্গুর এ সব বিশেষত্ব নিয়ে এখনই যদি আমরা ব্যাপক গবেষণায় মনোনিবেশ না করি, এডিস মশার নিধনে কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার ও ব্যবহারের পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে না পারি তাহলে আমাদের মৃত্যুঝুঁকি কতটা বেড়ে যাচ্ছে সেটি সহজে অনুমেয়।’

ডেঙ্গু একটি ভাইরাস। এই ভাইরাস যদি শরীরে প্রবেশ করে তাহলে ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন এনএস-১ উৎপাদিত হয়। কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে ১ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু এনএস-১ পজেটিভ পাওয়া যায় এবং ৫ দিন পর থেকে আইজিএম/আইজিই পর্যায়ে যায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে কম সংখ্যক মানুষ শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হন। শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যতীত ডেঙ্গুকে কঠিন কিছু ভেবে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দীন শাহ্

একই সঙ্গে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে নিরাপদ রাখতে নিজসহ পাশের সবাইকে সচেতন করতে হবে। পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে পরিবেশ। এসি কম্প্রেসারের পানি বা টবে, রান্নাঘর, গোসলখানাসহ বাড়ির আশপাশে স্বচ্ছ পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ঘরে-বাইরে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পানি জমতে পারে এমন কিছু, যেমন- ডাবের খোলা, টায়ার, বাটি বা এ জাতীয় কিছু রাস্তায় অথবা আশপাশে দেখলে সেটা সরিয়ে ফেলতে হবে। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের করণীয়।’ তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত সচেতনা করবে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মোকাবিলা। ডেঙ্গুর অনেকগুলো লক্ষণের একটি দেখা দিলে প্রথম দিনেই ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হতে হবে। তবে জ¦র হলেই যে সেটা ডেঙ্গু তা নয়। কী জ¦র সেটা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। কোনো সিদ্ধান্তই নিজে নয়। কারণ, এবছর ডেঙ্গুর ধরন বদলেছে।’

ডা. সালাহউদ্দীন আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুতে কেউ প্রথম একটি সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার অন্য একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হয়, তাকে আমরা বলি সেকেন্ডারি ডেঙ্গু ইনফেকশন। সেকেন্ডারি ডেঙ্গু হেমোরেজিক ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়ে থাকে। প্রথমবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না। বরং ওই ভাইরাস আরও বেশি পরিমাণে উৎপাদন হয়। এতে আক্রান্তদের শরীরে কিছু রাসায়নিক পদার্থ বেড়ে যায় ও শক সিনড্রোম হয়। ফলে শরীরে প্লাটিলেট কমে যায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান কাজ করতে পারে না। তখন ব্লিডিং শুরু হয়। সেকেন্ডারি বা দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেশি হয়ে থাকে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সঠিক চিকিৎসা না হলে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে পানি জমতে পারে, ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গে এই পানি ছড়িয়ে পড়তে পারে। শরীর ফুলে যেতে পারে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রক্তচাপ কমে যায়।’

বিভিন্ন হাসপাতালে গঠিত ডেঙ্গু সেলে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি নেই। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. সালাহউদ্দীন শাহ্ বলেন, ‘বেশির ভাগ হাসপাতালে মেশিনের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইংাং প্লাটিলেট বড় হয়ে থাকে। মেশিন বড় প্লাটিলেটকে কাউন্ট করে না। ফলে কখনো কখনো ডেঙ্গুবিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এমন মুহূর্তে কিছু হাসপাতাল রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি রেখে প্লাটিলেট দরকার না হলেও প্লাটিলেট দিয়ে, বোন ম্যারো ট্রান্সফিউশন দিয়ে অসাধুতার পরিচয় দিয়েছে। যেটা একেবারেই কাম্য নয়। অথচ ডেঙ্গু সেলে রক্ত বিশেষজ্ঞ থাকলে, এমনটি হতো না।’

একমাত্র পরিবেশিক নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা জাগ্রত করে ডেঙ্গু সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব।’ পরিবেশ নীতিবিদ্যা ও পরিবেশ দূষণ বিষয়ে পাঠদানকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জি এম তারিকুল ইসলাম বুধবার ভোরের পাতার এই প্রতিবেদকের সাথে এক সাক্ষাৎকালে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের মধ্যে  এই বোধ জাগ্রত করতে হবে যে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশের যতœ হলো প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্র। এক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিক সামাজিক কর্তব্য পালনের বিনিময় রাষ্ট্রের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালন করবে। মোট কথা আমার শহর, আমার দেশ ভাবতে হবে এবং সেই অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে।’

অধ্যাপক তারিকুল বলেন, ‘সরকারিÑবেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠনে নিয়োজিত সর্বশ্রেণির মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনে নিয়োজিত ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষ মিলে এই বিষয়ে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে আচরণ, দায়িত্ব ও কর্তব্য করার মধ্যদিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মোকাবিলা সম্ভব।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘নীতিবিদ্যা ও নৈতিকতা সম্পর্কিত আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে মানুষ এবং আচরণ ও তার কর্মকা-। বর্তমানে ঢাকার সহরসহ সমগ্র দেশে অর্থাৎ ৬৩ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত সমস্যা চলমান। তবে এই সমস্যা প্রকট আকর ধারণ করেছে আমাদের প্রধান শহর রাজধানী ঢাকাতে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বাথরুম ও রান্না ঘরের বেসিন, বাড়ির ছাদে কৃষি, ফুলের টব ইত্যাদি মশার উৎস ও লালনক্ষেত্র। এসকল উৎসস্থল  এবং লালনক্ষেত্রের দিকে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগ থেকেই নজর দিতে হবে এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বিদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ইথিওপিয়া যদি তাদের পরিবেশ রক্ষার জন্য মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৩৫ কোটি গাছ লাগিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারে তাহলে আমরা কেন পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করে এই সমস্য মোকাবিলা করতে পারবো না?’

শেষে তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি ডেঙ্গুর কারনে বর্তমানে আমাদের পরিবেশের ওপর যে বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে তা থেকে রক্ষা পাওয়া ও মোকাবিলা করার জন্য নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা-সমালোচনা ও তত্ত্বগত ভিত্তি দাঁড় করানো এবং তার যথাযথ প্রয়োগ দরকার।’

Ads
Ads