রেনুকে পিটিয়ে হত্যা: হৃদয় ৫ দিনের রিমান্ডে

  • ২৪-Jul-২০১৯ ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত ইবরাহীম হোসেন হৃদয়কে (১৯) পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুলাই) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জসিম পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষে ছিলেন মাইদুল ইসলাম পলক, জাহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।

এর আগে আজ দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, হৃদয়কে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় জানিয়েছে ঘটনার দিন রেনু স্কুলে প্রবেশ করার সময় গেটে থাকা অন্য এক নারী অভিভাবক তার পরিচয় এবং বাসার ঠিকানা জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেনু ওই নারীকে তার নাম-ঠিকানা জানান। সে সময় ওই নারী রেনুকে দেখিয়ে ছেলেধরা বলে চিৎকার করেন।

এর মধ্যে রেনুকে স্কুলের একটি কক্ষে বন্দি করা হয়। ছেলেধরার গুজবটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে কয়েকশ মানুষ ভিড় জমায় স্কুলের আশপাশে। এদের মধ্যে উৎসুক জনতা স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে রেনুকে বের করে পিটুনি দেয়। হৃদয়ও তাদের সঙ্গে অংশ নেয়।

হৃদয় জানায়, সে স্কুলের পাশে একটি দোকানে সবজি বিক্রি করে। ওই দিন সবজি বিক্রি শেষে সে স্কুলের কাছে দাঁড়িয়েছিল। রেনুকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখেছিল সে। ঘটনার পর সে (হৃদয়) যখন বুঝতে পারল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে তখন নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল বাতেন বলেন, রেনু এবং ওই নারী (যে চিৎকার দেয়) পূর্বপরিচিত কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। ঘটনাটি পরিকল্পিত কিনা তা ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বলা যাবে। কারণ রেনুকে দেখে তিনিই প্রথম ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করেছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিবি পূর্ব বিভাগ। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশের পূর্ব বিভাগের একটি টিম।

 

/কে 

Ads
Ads