ওয়াসির আত্না শুধু শোভন রাব্বানীকে নয়; পুরো ছাত্রলীগকেই ক্ষমা করবে না

  • ২১-Jul-২০১৯ ০৬:১৮ অপরাহ্ন
Ads

::উৎপল দাস::

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একমাত্র ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সর্বোচ্চ অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা যেখানে ছাত্রলীগকে অশুভ ও কালো সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য নিজে উদ্যোগী হয়ে মানবিক ছাত্রলীগ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে সভাপতি হিসাবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে মনোনীত করেছিলেন; শেখ হাসিনার সেই স্বপ্ন তারা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রতিনিয়তই। এমনকি নিজেদের মানবিক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়েও শতব্যস্ততার মাঝে লোক দেখানো মানবিকতা নিয়েই সময় পার করছেন তারা। সেক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ দেয়া, ছবি পোস্ট করা ছাড়া তেমন কোনো মানুষের গোপনে উপকার করার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শেখ হাসিনার আদর্শের কর্মী হিসাবে গোপনে মানুষের উপকার করার কথাই বলা হয়েছে। কিন্তু যতটুকু না ছাত্রলীগের নেতারা মানবিক কাজ করেন তার চেয়ে বেশি প্রচার করতে চান। এই বিষয়টার কারণেই ছাত্রলীগের মানবিকতাকে কথিত মানবিকতা বলে মনে করেন ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতা এমন কি আওয়ামী লীগেরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা। 

তাদের সঙ্গে এ প্রতিবেদক কয়েকধাপে কথা বলার পর নিশ্চিত হয়েছে, ছাত্রলীগের নেতারা এখন আর রাজনীতি করে না, পড়াশুনা করে না। পড়াশুনা বাদ দিয়ে শুধু শীর্ষ নেতাদের পিছনে পিছনে ছুটে বেড়ায়। ফলে নিজেদের একাডেমিক পড়াশুনার বারোটা বাজানোর পাশাপাশি পদ না পাওয়ার পর চাকরিতেও প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে না। ছাত্রলীগে প্রকৃত ইতিহাসও জানেন না বিতর্কে ভরপুর কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা। বিশেষ করে নারী নেত্রীদের নির্বাচনে সুন্দরী প্রকৃতপক্ষে (মেকাপ সুন্দরী)দের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সেখানে কয়েকটি গোপন বিয়ে, অমার্জিত পোশাক পরিহিতারাই এগিয়ে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকে খবর প্রকাশ হওয়ার পরও শুধুমাত্র ছাত্রলীগের শীর্ষ  দুই নেতাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার কাছের মানুষ হওয়ায় ছাত্রলীগেরই কেউ কিছু বলেন না। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে বললে, ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের বিরাগভাজন হওয়ার ভয় থেকে অনেক ত্যাগী, পরিশ্রমী ও মেধাবিরা চুপসে আছেন। প্রসাধনী মেখে, স্লিভলেস অশালীন পোশাক করে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সেলফিবাজি করার মাধ্যমেই ছাত্রলীগের নারীদের (কথিত সুন্দরী) রাজনীতি আটকে আছে। বিতর্কিত ১৯ জনের নাম প্রকাশের পরও সেখান থেকে সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন মাত্র ২ জন। বাকি ১৭ জনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছেন শোভন-রাব্বানী। এছাড়া এখনো পর্যন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর শুধু ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ ছাড়া কোনো ইউনিটই বর্ধিত সভার আয়োজনও করতে পারে নি। জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব বন্টন তো দূরে থাক, সব ক্ষমতা শীর্ষ দুই নেতার হাতেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে। কিন্তু সারাদেশের ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসাবে তারা সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন। কিন্তু সব দায়িত্ব মাথায় নিয়ে সারারাত ঘুমাতেও পারেন না। এছাড়া দুই নেতারই অভিজাত ফ্ল্যাটে রাত দিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে কমপক্ষে ১৮ ঘন্টা কথিত সুন্দরী থেকে শুরু করে স্বার্থান্বেষী নেতাকর্মী  ভিড় করতেই থাকে। তাই অন্য কোনো জেলায় ঘুরতে গেলে, সেখান থেকে ফেরার পর ক্লান্তি নিয়ে একটু বেশিই ঘুমাতে হয় শোভন-রাব্বানীর। সারাদিনের পরিশ্রমের কারণে তাদের এই ঘুমটা প্রয়োজন। 

কিন্তু যখন ঐতিহাসিকভাবে ছাত্রলীগের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন শুরুর প্রায় ৩ ঘন্টা পর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হন, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ থেকে মিছিল না আসলে ঢাকা শহর প্রকম্পিতই হতো না জয় বাংলা স্লোগানে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে হলেও শোভন-রাব্বানীর উচিত ছিল সময় মতো শনিবারের সম্মেলনে উপস্থিত থাকা-এমনটাই মনে করেন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আশেপাশে থাকা কয়েকজন অথর্ব ও কানভারি করতে থাকা নেতাকর্মী তাদের দেরিতে যাওয়ার কুপারমর্শ দিয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কেননা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করতেই কানভারি করা হয়েছিল শোভন রাব্বানীর। 

শনিবারের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল। এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে আড়াই ঘন্টারও বেশি বসিয়ে রেখে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু শেখ হাসিনার অনুগত বলে জবি ছাত্রলীগের সম্মেলন বিতর্কিত করতে চাননি বলে ধৈর্য্য নিয়ে বসেছিলেন। এরপর নিজের ভাষণে একটু ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি ছাত্রলীগের কোনো অনুষ্ঠানে যাবেন বলেও মনে হয় না, যেখানে গিয়ে আড়াই ঘন্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় আয়োজকদের জন্য। এমন ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার আদর্শের ছাত্রলীগ হতে পারে না বলেও মনে করেন অনেকে। কেননা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা এখনো কানভারি করা অথর্ব মানুষদের বুদ্ধিতেই কাজ করে বারবার বিতর্কিত হচ্ছেন। 

এদিকে, শনিবারের জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে এক কর্মীর মৃত্যুতে মর্মাহত হয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। প্রচণ্ড গরমেও সকাল থেকে তারা স্লোগানে কম্পিত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তবে শেষ পযর্ন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে বাধ্য হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? ছাত্রলীগের সম্মেলন যথা সময়ে শুরু হলে কি এমন ঘটনা ঘটতো? সম্মেলন বিকেলে দিলে কি হতো? এমন অনেক প্রশ্ন মনে জাগছে নেতাকর্মীদের মনে।

ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা মনে করছেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাসময়ে সম্মেলন শুরু করলে এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। তাদের দায়িত্বহীনতার কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আসার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে ক্যাম্পাসে আসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগের ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা দীর্ঘক্ষন জবি উপাচার্য়ের কনফারেন্সরুমে বসে ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গেলে আসাদুজ্জামান খান কামাল বক্তব্যের শুরুতে বলেন, আমি তো সময় মতো এসেছিলাম কিন্তু শোভন-রব্বানী দেরি করেছে।

প্রত্যাক্ষদর্শী ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান, সকাল ১১টার সম্মেলন শুরু হয় বিকেল তিনটায়। প্রচণ্ড গরমেও সকাল থেকে স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ফলে টানা ৭-৮ ঘণ্টার গরম সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পরে ওয়াসি সহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। সঙ্গে-সঙ্গেই তাকে জবি ক্যাম্পাসের পাশেই ন্যাশনাল মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। অন্যন্য কর্মীদের চিকিৎসা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, এই বিষয়টা অনেক পীড়াদায়ক। সম্মেলন যথা সময়ে শুরু করতে না পারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও সভাপতির ব্যর্থতা। তারা যদি যথা সময়ে সম্মেলন শুরু করতো তাহলে হয়তো এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত।

তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমনিতে জায়গার সংকট। প্রচণ্ড গরমের কথা বিবেচনা করে তাদের আরো আগে আসা উচিত ছিল। আশা করি এরপর থেকে তারা দায়িত্বশীল হবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক মো. সাফায়েতুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোন সম্মেলনে গিয়ে যথা সময়ে সম্মেলন শেষ করেন। তারাও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা হওয়ায় তাদেরও সময়ের কাজ সময়ে করা উত্তম। আমি শুনেছি, তারা সাড়ে তিন ঘন্টা পরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, তারা যদি যথা সময়ে সম্মেলন শুরু করতে নাই পারবে তাহলে একদিন আগে ঘোষণা দিলেই হত। তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় না দিলে এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত।  শনিবার (২০ জুলাই) ছাত্রলীগের সম্মেলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে সুলতান মো. ওয়াসি নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ইংরেজি বিভাগে ১১তম ব্যাচের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য, প্রেমঘটিত বিষয়ে সংঘর্ষের জেরে তরিকুল-রাসেল কমিটি ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি বিলুপ্তির প্রায় ৬ মাস পরে সম্মেলন হয়েছ। কিন্তু যে সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো ধরণের তদন্ত ছাড়াই জবি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল সেই ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলার ৩ নম্বর আসামি, যার বিরুদ্ধে শিবিরের রাজনীতি করার অভিযোগও রয়েছে সেই আশরাফুল ইসলাম টিটনকেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সম্মেলন করার আহ্বায়ক হিসাবে। শিবির থেকে অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগের এই টিটনকে জবি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা বানানোর জন্যও জোর তদবির ও লবিং শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক সভাপতি টিটনকে নেতা বানাতে উঠেপরে লেগেছেন। কেননা এটা করতে পারলেই তিনি টিটনের মাধ্যমে জবির সকল দরপত্রে নগ্ন হস্তক্ষেপ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এবার ছাত্রলীগের অছাত্র কাউকে নেতা না বানানোর অনুরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও যুবলীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মিজানুর রহমান। তিনি ভোরের পাতার এ প্রতিবেদককে বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন করার কাজ করা হোক। আমিও চাই সম্মেলন হোক। সেটা হয়েছেও। কিন্তু এমন কাউকে নেতা বানানো ঠিক হবে না, যার একাডেমিক পড়াশুনা  শেষ হয়ে গেছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সুন্দর ও স্থিতিশীল রাখতে অবশ্যই নিয়মিত ছাত্রদের মধ্যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং শেখ হাসিনার আদর্শের প্রশ্নে আপোসহীন কাউকে নেতৃত্বে দেখতে চাই। কিন্তু এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক তিনজন প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, এনামুল হক শামীম এবং লিয়াকত শিকদারের নাম উচ্চারণ করেই বলেন, তারা যাকে চাইবেন সেইসব ছেলেমেয়েগুলোই হয়তো নেতা হবে। কিন্তু শোভন-রাব্বানীর উচিত হবে শেখ হাসিনার প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ক্লিন ইমেজের কাউকে নেতা বানানো। 

শনিবার (২০ জুলাই) ছাত্রলীগের সম্মেলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে সুলতান মো. ওয়াসি নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তিনি ইংরেজি বিভাগে ১১তম ব্যাচের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল গনি মোহাম্মদকে মাত্র ৩ বছর বয়সে হারানো ওয়াসির ঠাঁইও হয়েছে তার বাবার কবরের পাশেই। দুই ছেলেকে নিয়ে ওয়াসির মা লুৎফুর নাহার বেগম আর বিয়ে না করে ছেলেদের মানুষ করার জন্য কতটা কষ্টের পথ পাড়ি দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তার খবর অনেকেই রাখেন না। বিশেষ করে ওয়াসির মৃত্যুর পর শোভন -রব্বানী ফেসবুকে হাহাকার করছেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে বিতর্কিত একজন দপ্তর সম্পাদকের স্বাক্ষরে শোকবার্তা দিয়েছেন। তবে রাব্বানী স্মৃতিচারণা করে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ওয়াসির চিকিৎসা তো দূরের কথা, তার লাশটিও বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার মতো কিছুই করেননি তারা। তবে জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে ওয়াসির লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফনকার্য শেষ করেছেন নিজ দায়িত্বে। 

তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসাবে শোভন-রাব্বানী কেন এখনো ওয়াসির মা লুৎফুর নাহারের কাছে যাচ্ছেন না। কর্মীর মৃত্যুর পর তার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের মাকে অনুধাবন করার মধ্যেই প্রকৃত নেতৃত্ব ‍গুণাবলী ফুটে উঠে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অপরিপক্ক মানবিকতা না দেখিয়ে মিরপুর ১২ তে ওয়াসির মায়ের যে হোমিওপ্যাথির ওষুধের দোকান আছে, সেখানেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এখনো। ওয়াসির কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাইটিরও দায়িত্ব নিতে পারেন শোভন রাব্বানী।  তা না হলে ওয়াসির আত্না শুধু শোভন রাব্বানীকে নয়; পুরো ছাত্রলীগকেই ক্ষমা করবে না। 

Ads
Ads