কোমলমতিদের জন্য চাই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা

  • ১৮-Jul-২০১৯ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

‘ছাত্রদের পাসের হারটা বাড়াতে হবে, যাতে জেন্ডার সমতাটা এসে যায়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য এক সময়ে এদেশে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে থাকা নারীদের বর্তমানে চরম উন্নতির কথা মনে করিয়ে দেয়। সুশীল সমাজ ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ায় অনেক অবদান রেখে আসছেন বলেই এমন একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। নারীরা এখন কাজেকর্মেও পুরুষের থেকে পিছিয়ে নেই। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের এগিয়ে নেওয়ার যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। যেহেতু নারীরা পিছিয়ে ছিল, তাই তাদের প্রতি বেশি মনোযোগ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে শিক্ষায় পুরুষের হার দিনদিন অবনতির দিকে যাওয়াটা আশঙ্কাজনক বটে!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষাবিষয়ক জেন্ডার সমতায় এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও এবার ফল আশাব্যঞ্জক। মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ। এরা সবাই আমাদের ভবিষ্যৎ। এদের কাছ থেকে দেশ গর্ব করার মতো কিছু আশা করে। তবে যারা অকৃতকার্য হয়েছে তারা যে দেশের গর্ব হয়ে উঠতে পারবে না, তা নয়। তাদের বিষয়ে পারিবার, সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। এবার এইচএসসিতে অকৃতকার্য ২৬ দশমিক ০৭ শতাংশকে এগিয়ে নিতে না পারলে আমরাই পিছিয়ে পড়ব। 

এবার এইচএসসিতে ৭৩ দশমিক ৯৩ ভাগ পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ শিক্ষার্থী। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, সামাজিকমাধ্যম এদের নিয়েই মেতে রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, অকৃতকার্য ২৬ দশমিক ০৭ শতাংশও আমাদের অংশ। তাদের এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের মনে রাখা আবশ্যক, মেধাশক্তি একেকজনের একেক দিকে বেশি কাজ করে। হতে পারে অকৃতকার্যদের কারো মধ্যে এমন কোনো প্রতিভা লুকিয়ে আছে, যা একদিন আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। অথচ তাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আশ্চর্য শক্তিকে হয়তো এখনো খুঁজে দেখার সময় করতে পারিনি আমরা। তাই আজই খুঁজুন, ভাবুন। পরিবার থেকেই এই ভাবনাটা শুরু হওয়া আবশ্যক। তাহলে প্রতিবছর ফল প্রকাশের পরপরই নানা দুর্ঘটনার খবর থেকে আমরা মুক্ত হব। 

এইচএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে দুজনের আত্মহত্যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। এসব আত্মহত্যা আমাদের প্রশ্নের মুখোমুখি করে তোলে। আসলে কি তারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে আত্মহত্যা করে? নাকি পরীক্ষায় পাস বা ফেল নিয়ে অভিভাবক, সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরণ তাদের বিপথগামী করে? আমাদের বিশ্বাস ছেলেমেয়েদের দিকে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাকালে, তাদের বোঝার চেষ্টা করলেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব। আজ যারা এইচএসসিতে অকৃতকার্য হলো, তারা নিশ্চয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, এসএসসি বা এর সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই এ পর্যন্ত এসেছে। তাই তাদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলে তারা যেপথে কর্মজীবনকে এগিয়ে নিতে চায় বা যে বিষয়ে তার পারদর্শিতা আছে সে বিষয়ে আরও এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করা উচিত বলে আমরা মনে করি।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ৯০৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪১টি। এই ৪১টিতে সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের প্রশংসা করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ‘৭৩ দশমিক ৯৩ ভাগ পাস করেছে। এটা যথেষ্ট ভালো এবং গ্রহণযোগ্য ফল। আমি মনে করি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীরা আরও মনোযোগী হলে তারা আরও ভালো ফল করতে পারবে, সেটা আমার বিশ্বাস।’ আমরা তার সঙ্গে একমত। আমরা কোমলমতিদের জন্য তাই চাই সুদূরপ্রসারী বাস্তব পরিকল্পনা।

Ads
Ads