টাঙ্গাইলে যমুনার ভাঙন অব্যাহত তিন শতাধিক ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন

  • ১৭-Jul-২০১৯ ০৯:৩১ অপরাহ্ন
Ads

:: আব্দুস সাত্তার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ::

টাঙ্গাইল সদর,কালিহাতী,ভূয়াপুর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মামুদনগর ও নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ও চর সলিমাবাদ এলাকাতেও প্রতিদিনই যমুনা গ্রাস করে নিচ্ছে নদী পাড়ের মানুষের সহায় সম্বল। বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অনেকেই।ভুঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ি ও ভালকুটিয়া গ্রামে দুইশতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্কুল,মসজিদ, মাদরাসা ও মন্দিরসহ কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙন কবলে পড়েছে।নদী গর্ভে ঘর-বাড়ি হারানো মানুষ রাস্তায় বা

বেড়িবাধে আশ্রয় নিয়েছে।আর নদী ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান,বিগত ২০১১ সাল থেকে ভাঙন শুরু হলেও টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড তা রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে দিন দিন যমুনা নদীর ভাঙনে গৃহহীন হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এই  অঞ্চলের মানুষ।তারা আরো জানান,যেভাবে যমুনা নদীর কষ্টাপাড়া, ভালুকুটিয়া ও খানুরবাড়িতে ভাঙন শুরু হয়েছে।এভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে গ্রামগুলো।

উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের সবুর আলী জানান,গত তিন সপ্তাহ যাবত যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয় এমপিসহ সরকারি কর্মকর্তারা ভাঙন দেখে গেছেন কিন্তু এখন পযর্ন্ত কোন  উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই।তারা শুধু এসে আশ্বাস দিয়ে যান।

ঈমান বেপারী নামের খানুরবাড়ি গ্রামের আরেকজন জানান,তিন গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।ভাঙন কবলিতরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন ও রাজনীতির ছত্রছায়ায় একটি মহল গত কয়েক বছরে অবৈধ ও অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলেই যমুনার পূর্বপাড়ে ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ত্রাণ নয়, ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান তারা।স্থানীয়দের দাবী বিশ বছরে তীব্র ভাঙনের ফলে যমুনা তার গতিপথ পাল্টে ৬ কি.মি পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যমুনা রক্ষা বাঁধটি।ভাঙনরোধে মাত্র ৭৫ মিটার এলাকায় নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এতে ভাঙনরোধের কোন কাজেই আসেনি।

নদী থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,যমুনার পূর্ব তীর রক্ষায় বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। আর জিও ব্যাগের সংকট থাকায় জরুরি ভাঙন ঠেকাতে বিলম্ব হচ্ছে। ভাঙনে কমপক্ষে ৫০০মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানো দরকার। কিন্তু বড় কোন প্রকল্প অনুমোদন হয় না। তাই ওই  এলাকায় ৭৫ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। আরো ৭৫ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানোর জন্য সংশিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা হবে।

Ads
Ads