বস্তিবাসীদের জন্য গৃহায়ণের ব্যবস্থা হোক দ্রুত

  • ১৬-Jul-২০১৯ ১০:২৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

‘এই দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না, রাস্তায় কোনো মানুষ ঘুমাবে না।’ একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই দৃঢ়প্রত্যয় আমাদের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। যে স্বপ্নে ভাসতে থাকে সুন্দর সাজানো-গোছানো এক দেশের চিত্র। যেখানে সামান্য জায়গায় ঘিঞ্জি করে আর বসবাস করবে না মানুষ। স্যাঁতসেঁতে, দুর্গন্ধময় পরিবেশে বসবাসের পাশাপাশি পরিবেশকে আর কেউ করে তুলবে না অস্বাস্থ্যকর। সন্ধ্যা নামলে ফুটপাতে কোনো বৃদ্ধ বা বৃদ্ধাকে মানবেতর রাতযাপন করতে দেখা যাবে না। অন্ধকারে কিম্ভূতকিমাকার কাউকে ওভারব্রিজে শুয়ে থাকতে দেখে ভয় পেতে হবে না। মায়ের কোলে সদ্যপ্রসূত শিশুকে বৃষ্টির জলে ভিজে মরতে হবে না। কামরাঙ্গীরচরের আট নম্বর গলির ছোট্ট শিশু রানার দুঃখের গান ‘আমি গল্লিবয়, নাম আমার রানা। শহরের ওলিগলি সব আমার জানা’ থেমে যাবে। সে গাইবে আনন্দের গান। দেশের সব মানুষই পাবে তার বসবাসের ঠিকানা।

গত বছর ২৪ ডিসেম্বর কামরাঙ্গীরচরে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘কেবল বড়লোকেরাই ফ্ল্যাটে থাকবে এবং বহুতল ভবনে থাকার সুবিধা পাবে, তা হবে না। মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষরাও যাতে দৈনিক, সাপ্তাহিক অথবা মাসিক মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে ফ্ল্যাটে থাকতে পারে, আমরা সেই ব্যবস্থাই করে দিচ্ছি, যেখানে সকলে সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ পাবে। এই লক্ষ্যে আমরা ফ্ল্যাট নির্মাণ করে বস্তিবাসীদের থাকার ব্যবস্থা করে দেবো।’ সে কথারই প্রতিফলন দেখলাম সোমবার। ইস্কাটনে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি ফ্ল্যাট উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, বস্তিবাসীরা নাজুকভাবে থাকলেও তাদের ভাড়া কোনো অংশে কম না। তারা যেন শান্তিতে থাকতে পারে, সেজন্য ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন, সপ্তাহ বা মাসভিত্তিক ভাড়া পরিশোধ করা যাবে।’ এর আগে গত বছরের ১ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবসে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ঘোষণা করেছিলেন, ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন শহরে স্বল্পআয়ের পরিবারের আবাসনের জন্য বহুতল ভবনে ১০ হাজার ৫৩৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা বলতেই পারি, সেদিন আর বেশি দূরে নয়!

বিভিন্ন সময়ে সরকারের নেওয়া মহান কিছু উদ্যোগের সামনে কিছু অপশক্তি বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেখা গেছে। যদিও তারা সফল হয়নি, আর হবেও না বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে কিছুটা হলেও সময় নষ্ট করেছে। বস্তিবাসীদের জন্য নেওয়া এই মহান উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে কোনো অপশক্তিই যেন সামান্য সময়কে নষ্ট না করতে পারে সেদিকে লক্ষ রেখে সব ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এ কাজে কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট-নীতিমালায় কোনো ফাঁকফোকর যেন না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ভবন যেন কমপক্ষে দেড়শ বছর টিকে থাকতে পারে সেভাবে তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। তাছাড়া ভবন তৈরি করে তা হস্তান্তর ও ভাড়া তোলা ছাড়াও ভবন রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি, সংস্কারপ্রক্রিয়া কী হবে তা ওই পরিকল্পনায় নিশ্চয় থাকবে বলে আমরা আশা করি। পথবাসী ও গরিবদের জন্য বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং তাদের আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসা সংগঠন কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (কাপ) গত বছরের শেষের দিকে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে যে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেছিল তা ভেবে দেখা যেতে পারে।

যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দক্ষ হাতে সকল পরিকল্পনা ও প্রকল্প সফলভাবেই শেষ করেছেন। এটিও বাস্তবায়ন করবেন। আর তা যতটা দ্রুত হয়, ততটাই দেশ ও জাতির মঙ্গল। কারণ, দরিদ্ররা পথে হোঁচট খেয়ে মরবে, রোদে পুড়বে, বৃষ্টিতে ভিজবে, মানবেতর জীবনযাপন করবেÑ এটা কারো কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মহান উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন ও সফল হোকÑ এটাই প্রত্যাশা।

Ads
Ads