বিজয় উদযাপনে “মদের” স্পর্শ থেকে বিরত রাখলেন ইংল্যান্ডের দুই মুসলিম খেলোয়াড়!

  • ১৬-Jul-২০১৯ ০৮:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল উপহার দিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা জিতেছে ক্রিকেটের জন্মদাতা দেশ ইংল্যান্ড। শিরোপা জেতার আনন্দ উদযাপনে তারা ছিলো বেশ উৎফুল্ল। মদের বোতল তথা শ্যাম্পেন, হুইস্কির ঝাঝালো ছটা দিয়ে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছেন।

সুপার ওভারে জেতার পর মাঠে যতোবারই তারা একত্রিত হয়েছে ততবারই হুইস্কি, শ্যাম্পেনের ঝাঝালো ছটা দেওয়া হয়েছে। সব ক্রিকেটারের হাতেই ছিলো হুইস্কি বা শ্যাম্পেনের বোতল। কেবল ব্যাতিক্রম ছিলেন ইংল্যান্ডের দুই মুসলিম খেলোয়াড় আদিল রশিদ এবং মুঈন আলী। উদযাপনের সময়কার ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যখনই বিয়ার বা শ্যাম্পেনের বোতল খুলে মদ ছিটানো হয়েছে তখনই নিজেদেরকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে নিয়েছেন তারা দুজনে।

একবার দুবার নয় বরং তিনবার এমন হয়েছে। ট্রফি নিয়ে একসাথে উদযাপনের সময়ও তারা দুজন নিজেদেরকে সরিয়ে রেখেছে উদযাপন থেকে। মদ ছিটিয়ে উদযাপন শুরুর সাথে সাথে তারা দৌড়ে সরে যেতেও দেখা গেছে দুবার। এমনকি তাদেরকে সহযোগীতা করেছেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রাও। তাদেরকে পাশে সরে যেতে সাহায্য করেছেন তারা। তারা দুজন না সরে যাওয়া পর্যন্ত মদের বোতল খুলতেও দেখা যায়নি খেলোয়াড়দের।

মঈন আলী ও আদিল রশিদের এই কাজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়ে মুসলিমদের কাছে। সারাবিশ্বের মুসলমানরা তাদেরকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে ভিডিওগুলো। কেবল মুসলিমরাই নয় অনেক মুসলিমরাও তাদের এই ধর্মীয় অনুসাশন মেনে চলার মানসিকতাকে শ্রদ্ধার সাথে সমর্থন করেছেন।

ধর্মপ্রাণ মুসলিম ক্রিকেটার হিসেবে এই দুজনের খ্যাতি জগতজোড়া। খেলার মধ্যেও যতটা সম্ভব ধর্মীয় রীতি নীতি মেনে চলেন তারা। মদের কারণে দলের সঙ্গে তাদের শিরোপা উদযাপন না করার নজির এই প্রথম নয়। এর আগে গেল বছর ঘরের মাঠে ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারানোর পরও একই কারণে দলের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেননি তারা।

প্রসঙ্গত : ইসলাম ধর্মে মদ সম্পূর্ণরূপে হারাম একটি বস্তু। মদ গায়ে লাগলেও তা নাপক বা অপবিত্র হিসেবে গন্য করা হয় ইসলাম ধর্মে। ইসলামের এই অনুসাশন মেনেই ইংল্যান্ডের দুই মুসলিম খেলোয়াড় মুঈন আলী এবং আদিল রশীদ নিজেদেরকে মদের সংস্পর্শ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

অন্য সংবাদ

এরদোগানকে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করলো কির্গিজস্তানের মানাস বিশ্ববিদ্যালয়!

কির্গিজস্তানে সফররত তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগানকে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করেছে সেদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরুনবাঈ জেনবিকোভকেও সম্মানসূচক এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও সুরুনবাঈ জেনবিকোভের একাডেমিক শিক্ষা বিস্তারে অবদানের জন্য উভয়কেই এই গৌরবময় ডিগ্রি প্রদান করে ‘মানাস বিশ্ববিদ্যালয়’। রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত মানাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি নতুন বিভাগ ও অনুষদ উদ্বোধনকালে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদেরকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়।
 
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, নিশ্চয় তুর্কি-কির্গিজ মানাস বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছে। আর এরকম বড় একটি প্রতিষ্ঠান আমাকে এরূপ একটি গৌরবময় সম্মান প্রদান করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। উল্লেখ্য, তুরস্ক কির্গিজস্তান-যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মধ্য এশিয়ার বন্ধু রাষ্ট্রসমূহকে একাডেমিক শিক্ষা সহায়তা প্রদান করার উপর ভিত্তি করে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২৩ বছর অতিবাহিত করা এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রযুক্তি এবং আধুনিক মানোন্নয়ন এর দিক দিয়ে স্বতন্ত্র একটি স্থান অর্জন করে নিয়েছে।

Ads
Ads