শেখ হাসিনার কারান্তরীণ দিবসঃ একজন সাহসী রিয়াজের কথা কেউ মনে রাখে না

  • ১৬-Jul-২০১৯ ০১:৫১ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: সিনিয়র প্রতিবেদক ::

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস আজ। দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের এইদিনে ধানমন্ডির বাসভবন সুধাসদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদে স্থাপিত বিশেষ সাবজেলে কারারুদ্ধ থাকেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ২০০৮ সালের ১১ জুন ৮ সপ্তাহের জামিনে মুক্তি দেয়া হয় তাঁকে। মুক্তি পেয়েই চিকিৎসার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র যান তিনি। চিকিৎসা শেষে সেখান থেকে একই বছরের ৬ নবেম্বর দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। কয়েক দফায় জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর পর দেশে ফিরলে তাঁকে স্থায়ী জামিন দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন অগণতান্ত্রিক সরকার।

২০০৭ সালের আজকের এই দিনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দুঃসময়ে রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিকের নাম রিয়াজ উদ্দিন। চাঁদপুরের মতলবে জন্ম নেয়া এই রিয়াজের রাজনৈতিক পরিচয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি। শেখ হাসিনাকে যখন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করছিল, তখন পুলিশের হামলাকে উপক্ষো করে নেত্রীর কাছে যেতে চেয়েছিলেন। শুধু আবেগের জায়গা থেকেই একজন কর্মী হিসাবে তিনি এমনটা করেছিলেন। এমনকি সারাদেশে যখন ফখরুদ্দীনের অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছিল, আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা নেতারা যখন পালিয়ে বিদেশ চলে গিয়েছিলেন, তখনো রাজপথে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) মুক্তির দাবিতে মিছিল, মিটিংয়ে সরব উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন পুলিশ বাহিনীর অত্যাচার নিপীড়ন এবং অবৈধ সরকারের রক্তচুক্ষুকে উপেক্ষা করে বারবার তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন। 

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকমহলের কয়েকজন ভোরের পাতার এ  প্রতিবেদককে বলেন, ২০০৭ এর পর ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে আফসোসের বিষয় এই যে,  শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে মুক্তি আন্দোলনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করা, নির্যাতন সহ্য করা রিয়াজরা মূল্যায়িত হচ্ছে না আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনগুলোতে। পক্ষান্তরে মূল্যায়িত হচ্ছেন উড়ে এসে জুড়ে বসা নায়িকা, গায়িকা থেকে শুরু করে অরাজনৈতিক অনেক মৌসুমী নেতা। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ণ করা না হলে একসময় দলের সামনে সংকট আসতে পারে বলেও মনে করেন কেউ কেউ। 

এদিকে, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) ওপর আমার ভরসা আছে। তিনিই আমাদের আশ্রয়স্থল। রাজনৈতিকভাবে কোনোকিছু পাওয়ার আশায় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ছিলাম না। এখনো তার জন্য জীবন দিতে রাজি আছি। তিনি আমাকে যা দিবেন, তাতেই আমি খুশি থাকবো। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিতে দিতেই মরতে চাই আওয়ামী লীগের জন্য। কি পেলাম, কি পেলাম না, কি পাবো এসব ভেবে রাজনীতি করতে আসি নাই। নেত্রীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। 

শেখ হাসিনার কারান্তরীণ দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন এবং বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারান্তরীণ দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ২য় তলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট ইসলাম উপস্থিত থাকবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত। অন্য সংগঠনও দিবসটি উপলক্ষে নিয়েছে নানা কর্মসূচী।

Ads
Ads