যে ৫ কারণে বিশ্বকাপটা জেতা হলো না নিউজিল্যান্ডের

  • ১৫-Jul-২০১৯ ০১:৫০ অপরাহ্ন
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর ছাড়া দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা ফর্মে ছিলেন না। তাই ধারাবাহিক রান খরায় ভুগেও বোলারদের দাপটে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আসে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলেও শিরোপা উঁচিয়ে ধরা হলো না ব্ল্যাক ক্যাপসদের। আরও একবার আক্ষেপের গল্প লিখে অপেক্ষা বাড়ালো ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপদেশটি।

রবিবার বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরের মহাকাব্যিক এক ফাইনালে সুপার ওভারে বাউন্ডারির হিসাবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপটা নিজেদের ঘরে তুললো স্বাগতিক ইংল্যান্ড। কিন্তু সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ২৩৯ রান করেও যেভাবে ম্যাচটা বের করে এনেছিল নিউজিল্যান্ড সেটা হতে পারতো ফাইনালেও। কিন্তু বিধি বাম! নইলে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ কি এমন করে হাতছাড়া হয়!

তবে ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের পরাজয়ের পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ উল্লেখ করা যেতে পারে। 

১. তখন নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ৩৪তম ওভারের খেলা চলছে। বল করতে এলেন মার্ক উড। ওভারের প্রথম বলটিই রস টেইলরের বাঁ পায়ের প্যাডে আঘাত হানে। আবেদনটা ততটা জোড়ালো ছিল না। কিন্তু আঙুল উঁচিয়ে আম্পায়ার জানালেন টেইলর আউট। পরে টিভি রিপ্লেপে দেখা যায় টেইলরের যে বলটিতে আউট হলেন সেটি স্ট্যাম্পের অনেকটা উপর দিয়ে যাচ্ছিল। তখন কিউইদের রান ছিল ১৪১। ভুল সিদ্ধান্তে টেইলর আউট না হলে দলের রানটা আরও বাড়তে পারতো। লড়াইয়ে আরেকটু বড় পুঁজি পেতো নিউজিল্যান্ড। আম্পায়ারের এক ভুলের মাশুল যে শেষ পর্যন্ত টেইলরদের দিতে হলো বিশ্বকাপ হেরে। 

২. ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তো থাকেই। থাকবেই। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের অনেকেই সেট হয়েও আউট হয়েছেন দ্রুত। বলও খরচ করেছেন অনেক। বিশেষত, কেন উইলিয়ামসন, জেমস নিশাম ও গ্র্যান্ডহোমের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যানরা ফাইনালে যেন টেস্ট মেজাজে ব্যাট করেছেন। যেটির পুরোটা কাজে লাগিয়েছে ইংলিশরা। 

৩. স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্যটা মাত্র ২৪২ রানের হলেও সেটাই একসময় পাহাড় সমান মনে হচ্ছিল, যখন কিনা ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারালো ইংল্যান্ড। মিচেল সান্টনার একজন নিয়মিত স্পিন বোলার। বিশ্বকাপে বলও করেছেন দুর্দান্ত। কিন্তু ফাইনালে তাকে একটু ব্যবহার করতে পারেননি অধিনায়ক উইলয়ামসন। ইংলিশরা যখন ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকছিল তখন সান্টনারের হাতে বল তুলে দিলে সে দ্রুত ওভারগুলো শেষ করতে পারতো। তাতে রান রেটের চাপ বাড়তে প্রতিপক্ষের। উইকেটও তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি হতো। দলের একমাত্র স্বীকৃতি স্পিন বোলার হয়েও সান্টনার ফাইনাল ম্যাচে ১১ রানের বিনিময়ে মাত্র ৩ ওভার বল করার সুযোগ পান। 

৪. নিউজিল্যান্ড ফিল্ডিংয়ে বরাবরই ভালো। কিন্তু ফাইনালের চাপ বলে কথা। সেই চাপই শেষ পযন্ত গ্রাস করলো কিউইদের। ২ বলে ইংল্যান্ডের দরকার যখন ৩ রান তখন ডাবল নিতে গিয়ে রান আউট হলেন আদিল রশিদ। কিন্তু ওই বলে বিধ্বংসী বেন স্টোকসকে আউট করার বড় সুযোগ হাতছাড়া করে নিউজিল্যান্ড। টেন বোল্ট রশিদের প্রান্তে উইকেট ভেঙে নিজেই মাথায় হাত দেন। ঠিক তার আগের বলটিতেই অর্থাৎ ৩ বলে যখন ইংলিশদের দরকার ৯ রান তখন গাপটিলের ওভার থ্রো’র বলটি কাকতালীয়ভাবে স্টোকসের ব্যাটে লেগে সীমানাছাড়া হয়। ২ রানের জায়গায় ৬ রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। 

৫. সুপার ওভারে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পেরে উঠবে না নিউজিল্যান্ড- এমন ধারণা অনেকেরই ছিল। কারণ, জেসন রয়, বেন স্টোকস কিংবা জজ বাটলারদের মতো হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান তো আর নিউজিল্যান্ড দলে নেই। কিন্তু সুপার ওভারে ১৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে অফফর্মে থাকা মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশামের ওপর ভরসা রাখে কিউইরা। স্ট্রাইকিং প্রান্তে গেলেন জিমি নিশাম। প্রথম বলটাই হলো ওয়াইড! পরের বলেই ২ রান, পরের বলেই ছক্কা। ৪ বলে মাত্র ৭ রান দরকার। এমন অবস্থায় পরের ২ বলে এল ৪ রান। ২ বলে দরকার ৩ রান। পরের বলে এল ১ রান। শেষ বলে ২ রান দরকার।  স্ট্রাইকিং প্রান্তে গাপটিল। ডিপ মিড উইকেটে বল পাঠিয়ে ২ রান নেয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু জেসন রয়ের থ্রো বাটলারের কাছে এসে পৌঁছাল একটু আগে। রানআউট হয়ে গেলেন গাপটিল। সুপার ওভারও টাই হলো! প্রশ্ন থাকতেই পারে- পুরো বিশ্বকাপে রান খরায় থাকা গাপটিলকে কেন ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল নিউজিল্যান্ড? অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন কিংবা রস টেইলরকে কেন পাঠানো হলো না? শেষ বলে ২ রান এমন আহামরি কিন্তু কিছু ছিল না! 

যা হোক, ১৯৭৫ সালে যাত্রা শুরু হওয়া বিশ্বকাপের ৪৪ বছর বছর ১২তম বিশ্বকাপে শিরোপার স্বাদ পেলো ক্রিকেটের জন্মভূমি খ্যাত ইংল্যান্ড। আর টানা দুইবার ফাইনালে উঠেও রূপকথার গল্পটা লিখা হলো না কিউইদের।  

 

/কে 

Ads
Ads