কুবিতে অন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বির্তক নিয়ে তুলকালাম 

  • ৭-Jul-২০১৯ ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
Ads

:: কুবি প্রতিনিধি ::

কুুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক সমিতি অায়োজিত 'অন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল ফেষ্ট -২০১৯" প্রতিযোগিতায় বিতর্ক অংশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বিতর্ক পরিচালনা ও বিচারকার্যে অসামঞ্জস্যতা সহ নানা অভিযোগ এনে অধিকাংশ দল প্রতিযোগিতা বর্জন করেছে। 

জানা গেছে, গত শুক্রবার  (০৫ জুলাই) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিতর্ক অংশের বাছাইপর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ টি বিভাগের ১৮ টি বিভাগ বিতার্কের জন্য দল দেয়। কিন্তু একদিনের মধ্যেই অধিকাংশ দল অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে বিতর্ক বর্জন করেছে। এখন পর্যন্ত নৃবিজ্ঞান, সাংবাদিকতা , সিএসই, মার্কেটিং, আইন, ফার্মেসী, গণিত, আইসিটি, পদার্থ, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের বিতর্ক বর্জন করার তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, আমরা বিতর্ক করতে যেয়ে অনিয়ম দেখে অবাক হয়ে যাই। একটু আগে যে শিক্ষার্থী এক দলের বিতার্কিক ছিলেন, তিনিই আবার আমাদের বিচারক হয়ে গেলেন। বিষয়গুলো বিতার্কিক হিসেবে আমাদের ভালো লাগেনি। তাই আমরা বিতর্ক বর্জন করেছি।

সিএসই বিভাতের বিভাগের দলনেতা দীপ্ত ব্রত দাস বলেন,  আমরা বিতর্কে অনেক বিষয়ে অস্বচ্ছতা দেখে  বর্জন করেছি। একাধিক দলের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমত বিচারক রাখা হয়েছে অনভিজ্ঞ। যাকে বিচারক হিসেবে রাখা হয়েছে সে অন্য আরেকটি বিভাগের বিতার্কিক। যা বিতর্কের নিয়ম পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, বিতর্কেরর ম্যাচ-অাপ কোন দলের সাথে কোন দলের তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সামনাসামনি জানাতে হয়। কিন্তু এখানে তা হয়নি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আদনান কবির সৈকত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার অস্বচ্ছতা এবং অব্যবস্থাপনার কথা আমাদের বিতার্কিকরা আমাদেরকে বলেছে। বিষয়টি দুঃখজনক। গতবার এই আয়োজনের দায়িত্ব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির উপর ছিলো এবং আমরা সফলভাবেই সেটি আয়োজন করেছিলাম। যেহেতু এবছর কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তাই আমরা আশা করবো যারা এই আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন, তাঁরা বিতার্কিকদের এই অভিযোগগুলোকে আমলে নিয়ে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নিবেন। ”

অভিযোগের বিষয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির পক্ষে ইমরান হোসাইন বলেন, বিতর্ক নিয়ে যে অভিযোগগুলো এসেছে সব ভিত্তিহীন। একটি মহল উদ্দেশ্য নিয়ে এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিতার্কিক দিয়ে বির্তক করানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বিতার্কিক উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন। অন্যদিকে শিক্ষক না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকায় প্রথম পর্বে সময় দিতে পারেননি। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে কথা হয়েছে দ্বিতীয় পর্ব থেকে শিক্ষকরা থাকবেন। 

এবিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোঃ শামিমুল ইসলাম বলেন, বিতর্ক পরিচালনা নিয়ে যেহেতু বিতর্ক ওঠেছে, তাই বিতর্ক অামরা বন্ধ রাখতে বলেছি। সবাই মিলে আজকে (রোববার) বসে একটি সুন্দর সমাধানে অাসার চেষ্টা করবো।'

Ads
Ads