শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: দায়িত্বশীল নেতার ফোন রেকর্ড পুলিশের হাতে

  • ১১-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

কীভাবে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ওই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ধ্বংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করার জন্য অনেকে চেষ্টা করেছেন- উল্লেখ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, আপনারা অনেক ‘তথাকথিত’ দায়িত্বশীল নেতার অডিও-ভিডিও রেকর্ড শুনেছেন। এমন আরও কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার অডিও রেকর্ড রয়েছে পুলিশের হাতে।

শনিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ট্রাফিক সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে শেষ দিন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তৃতীয় দিনে স্বার্থান্বেষী মহল প্রপাগান্ডা ছড়ান। হত্যা, ধর্ষণ ও চোখ তুলে ফেলার মতো গুজব ছড়িয়ে মিথ্যাচার করেন। আন্দোলনের সময় আমরা দেখেছি, গাউসিয়া-নিউ মার্কেটে স্কুলড্রেস বানানোর হিড়িক পড়ে যায়। ভুয়া আইডি কার্ডও তৈরি হয়।

সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিনের ঘটনা দুঃখজনক। ওই ঘটনায় কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন আমরা মামলা নেবো। পাশাপাশি ওই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এ ট্র্যাফিক সপ্তাহে ব্যক্তি, পেশা, তার অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে এই বার্তা দিতে পেরেছি যে, ট্র্যাফিক আইন অমান্য করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশের বিবেককে নাড়া দিতে পেরেছে। তাদের দাবি যৌক্তিক, ন্যায্য। আমরা তাদের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করি।  

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ জনদুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতে পারে না। এখানে কর্মজীবী মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে, এমনকি তাদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি যে, আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে অভিপ্রায় নিয়ে মাঠে নেমেছে, সেজন্য আমরা অবশ্যই তাদের স্যালুট করি। 

কমিশনার বলেন, বিশেষ এ ট্রাফিক কার্যক্রমে মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার অনিয়মই বেশি ধরা পড়ছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ চালকই ট্র্যাফিক আইন অমান্য করছেন, সঙ্গে রাখছেন না প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও।

রাজধানীর ৮টি পয়েন্টে পুলিশকে রোভার স্কাউটের সদস্যরা সহায়তা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাস্তা পারাপারে পথচারীদের সহযোগিতার পাশাপাশি নাগরিকদের ট্র্যাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করছেন রোভার স্কাউট সদস্যরা।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আইন অমান্য করায় ট্র্যাফিক সপ্তাহে মোট ৫২ হাজার মামলা হয়েছে। লাইসেন্স না থাকায় মোট ১১ হাজার ৪০২ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফিটনেস না থাকায় ডাম্পিং করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭২টি গাড়ি এবং তিন কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

অনলাইন/কে 

Ads
Ads