প্রথম হওয়ায় ভাইদের হাতে দুবছর ধরে গণধর্ষিতা বোন

  • ১-Jul-২০১৯ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Ads

 

:: সীমানা পেরিয়ে ডেস্ক ::

মেয়েটি লেখাপড়ায় খুব ভালো। তার সঙ্গে মেধার প্রতিযোগিতায় কিছুতেই পেরে উঠছিলো না তার যৌথ পরিবারের চার চাচাত ভাই। একে তো মেয়েটি তাদের চেয়ে বয়সে ছোট, তার উপর আবার মেয়ে। তাই বোনের এই সাফল্য কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলো না তার ভাইয়েরা। মেধায় পাল্লা দিতে না পারলে কি হবে তাদের তো রয়েছে পুরুষের পেশীশক্তি। শেষে সেটাই প্রয়োগ করলো ওই চার ভাই।

এক স্কুলশিক্ষকের সহায়তায় চার ভাই মিলে ধর্ষণ করেছে সেই মেয়েটিকে। এখানেই খান্ত হয়নি তারা, ধর্ষণের ভিডিও ছেড়ে দেয়া হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। যাতে মেয়েটা আর স্কুলেই যেতে না পেরে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সমাজে।

সম্প্রতি এই পাশবিক ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সীতাপুর এলাকায়।

সেখানে এক সরকারি স্কুলের শিক্ষকের ঘরে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞান করা হয় অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ওই ছাত্রীকে। এরপর তাকে গণধর্ষণ করে চার চাচাতো ভাই মিলে। শুধু গণধর্ষণ করেই থামেনি তারা। গোটা ঘটনার ভিডিও করে তা পরিবারের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপে পোস্টও করেছে বলে অভিযোগ। এরপরেই পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

গত শনিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ১৬ বছরের ওই ছাত্রীর অভিভাবকরা। যদিও এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মহোলি থানার পুলিশকে দেওয়া বয়ানে মেয়েটি জানিয়েছে, এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত দু’বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে ওই চার ভাইয়ের হাতে তাকে ধর্ষিতা হতে হয়েছে।

গত শুক্রবার স্কুলে এক সঙ্গে টিফিন খাওয়ার জন্য স্কুলের মাঠে তাকে ডাকে তার ভাইয়েরা। তারা তাদের টিফিন বোনটিকে খেতে দেয়। ভাইয়েদের দেয়া খাবার সরল বিশ্বাসে খেয়ে নেয় বোনটি। সেই খাবার খেতে খেতেই জ্ঞান হারায় সে। তারপর তার আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফেরে তখন দেখে স্কুল শিক্ষকের ঘরে শুয়ে আছে সে। শারীরিক যন্ত্রণাই জানিয়ে দেয়, সে ফের ধর্ষিতা হয়েছে। কিন্তু এবারও লোকলজ্জার ভয়ে চুপ করে থাকে ওই নাবালিকা। কিন্তু রাতেই বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকতে শুরু করে ধর্ষণের ভিডিও। তখনই বিষয়টি তার বাবা-মা জানতে পারেন। সেই সঙ্গে ধর্ষণের স্থান ও ধর্ষকদের পরিচয়ও প্রকাশ হয়ে যায়।

মেয়ের সঙ্গে হওয়া এই অন্যায়ের বিচার পেতে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, প্রতি বছরই পরীক্ষায় প্রথম হয় ওই মেয়ে। তার মেধার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে না পেরে এই নোংরা পথ বেছে নেয় তথাকথিত ভাইয়েরা। পরে ধর্ষণের ভিডিও পোস্ট করে অভিযুক্তরা। তারা আশা করেছিল, মেয়ের ধর্ষণের খবর জানলে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেবে তার অভিভাবকরা। ফলে একটা মেয়ের কাছে আর অপমানিত হতে হবে না ওই চার ‘বীর পুরুষকে’!

 

/কে 

Ads
Ads