সরকারি চাকরিতে ডোপটেস্ট: বেসরকারি চাকরিতেও প্রযোজ্য হোক

  • ২৬-Jun-২০১৯ ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

‘সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে’- বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। আশা করি প্রধানমন্ত্রীও তার এই আবেদন কবুল করে নিবেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে যদি ডোপটেস্ট করা হয়ে থাকে, তাহলে চাকরিক্ষেত্রে তা হবে না কেন? কাজেই আমরা মনে করি, শুধু সরকারি চাকরিই নয়, অন্যান্য বহুজাতিক, কর্পোরেট বা বেসরকারি চাকরিতেও এ ব্যবস্থা রাখা উচিত।

আশা করি, সরকারিভাবে এটা বাস্তবায়িত হলে একইভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটা হবে। আমরা মনে করি, মাদকাসক্তি বর্তমানে একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ফের এই মাদকের চল করতে লাইসেন্স দেওয়া শুরু করেন। তবে তখন মাদক বলতে যা ছিল বর্তমানে সেটা তার চাইতেও অনেক ভয়ঙ্কর। এমন ভয়ঙ্কর বদঅভ্যাস নিয়ে আর যা-ই হোক, কেউ প্রজাতন্ত্রের সেবক হতে পারে না। সে চাকরি করবে বড়জোর নিজের স্বার্থে, প্রজাতন্ত্রের স্বার্থে নয়। শুধু তা-ই নয়, একজন মাদকাসক্ত সরকারি চাকুরে তার মদের টাকা জোগাড়ের জন্যই দুর্নীতি করবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বেতনের টাকায় যদি সে মদই পান করবে তাহলে সে সংসারের বাকি প্রয়োজনের জন্য সে টাকা জোগাড় করবে কীভাবে। বলা হয়, মাদকাসক্তের টাকা ভূতে জোগায়। অর্থাৎ তখন সে বাধ্য হয়েই অবৈধ পথে টাকা জোগাড়ের রাস্তা ধরে। 

কাজেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে প্রথমত দুর্নীতি হ্রাসের ক্ষেত্রে যেমন এটা অনেকাংশে সহায়ক হবে পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও বয়ে আনবে স্বস্তি ও সম্প্রীতি। আজকাল পারিবারিক জীবনে যে শৈথিল্য, রেষারেষি, ভাঙ্গন ইত্যাদি ঘটে চলেছে এর জন্য এই মাদকাসক্তিকেই অনেকাংশে দায়ী করা হয়ে থাকে। যতো অনৈতিকতার মূলেই এই মাদকাসক্তি। সবচেয়ে বড় কথা বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন সে বাংলাদেশে মাদক ও মাদকাসক্তির কোনো ঠাঁই নাই। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমরা তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার দিকে মুখিয়ে আছি। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সফল মাদক অভিযান হয়েছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অনেকে নিহতও হয়েছে এতে। এখন এই মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রাহকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক সেটাই জনগণ দেখতে চায়। এখন সরকারি চাকরি ক্ষেত্রে এই ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলে আশা করা যায় সরকারি কর্মক্ষেত্রগুলো মাদকমুক্ত হবে। বয়ে আনবে সমাজ ও পারিবারিক জীবনেও স্বস্তি।    

Ads
Ads