ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। তার মানে এই নয় যে তারা অরাজকতা করতেই থাকবেন, আর আমরা দৃশ্য দেখতে থাকব। মোটেই না, আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (০৫ আগস্ট) গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে দেশব্যাপী ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক মাধ্যমজুড়ে শুধু মিথ্যাচার আর গুজব। একজন অভিনেত্রী শনিবার কীভাবে কথাগুলো বললেন, কীভাবে অভিনয়টা করলেন আপনারা দেখেছেন। একটি মহল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবি ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে এই অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিএনপি নতো আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে আক্রমণ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ঢাকায় প্রবেশের সময় আমরা এমন সব ছাত্র নামধারী লোকজনকে আটক করেছি যাদের ব্যাকপ্যাক ভর্তি পাথর। এ কয়েকদিনে হাজার হাজার স্কুলড্রেস তৈরি করা হলো, হাজার হাজার আইডিকার্ড বানানো হলো। আইডিকার্ড ঝুলিয়ে অছাত্ররা কোমলমতি ছাত্রদের আন্দোলনে প্রবেশ করেছে।’

পাকিস্তান-দিল্লির বিভিন্ন ঘটনা এ দেশের ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আপত্তিকর পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। তারা যদি এসব অপতৎপরতা পরিহার না করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের দাবি অপূর্ণ নেই। নয়টির মধ্যে দুটি দাবি, যেমন- আইনের কথা বলেছে, সেটির সময় লাগবে, আগামীকাল সেটি কেবিনেটে উঠছে। আন্ডারপাসও প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটিরও কাজ শুরু হবে। কাজেই এখন আর কিছু নেই। তাই আপনাদের মাধ্যমে বলব, তারা যেন রাস্তা থেকে ফিরে যায়

ট্রাফিক সপ্তাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা কেউ ট্রাফিক আইন মানি না। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতেই দেশব্যপী ট্রাফিক সপ্তাহ। সারাদেশে দূর্ঘটনার মাত্রা এতো বেড়ে গেছে, যা ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। আইন মানলে দূর্ঘটনা কমে আসবে, জনদূর্ভোগ কমবে। ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধনের মাধ্যমে আইন মেনে চলার প্রক্রিয়া শুরু হলো, সারা বছর যেন এটা চলমান থাকে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাফিক আইন নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারি বলেন, আশা করব কেউ অযথা রাস্তায় জমায়েত করে জনগনের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত করবেন না।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ডিএমপিতে যানজট সবচেয়ে বড় সমস্যা। সমাধানে সকলে মিলে সবসময় পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমাদের আইন না মানার প্রবণতাই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কষ্টকর হবে। আজ থেকে স্কাউট ও গার্লস গাইডের সহযোগিতায় ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কেউ যদি এর সঙ্গে সহায়তা না করে উল্টো রাস্তায় নেমে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে, সেটি হবে দূর্ভাগ্যজনক।

উল্লেখ্য, এই সপ্তাহে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, ইনস্যুরেন্সসহ নানা কাগজপত্র ও এসবের মেয়াদ যাচাই-বাছাইয়ের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহে প্রভাবশালীদের আইন না মানার প্রবণতা বন্ধ ও সাধারণ জনগণকে রাস্তা পারাপারের জন্য ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

/ই

Ads
Ads