ভ্যাটে ভুগবেন ভোক্তারা, যেসব পণ্য ও সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট

  • ১৩-Jun-২০১৯ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।

এবার ৫ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের ব্যয় মেটাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে খড়গ পড়ছে ভোক্তাকের ওপর।

প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় হলে একজন ব্যক্তিকে আয়কর দিতে হয়। এর কম আয় করলে আয়কর দিতে হয় না। কিন্তু পথের ভিখারি থেকে কোটিপতি পর্যন্ত সবাইকে একই হারে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) দিতে হয়।

নতুন আইনের আওতায় আগামী বাজেটে একদিকে ভ্যাটের পরিধি ব্যাপক হারে বিস্তৃত করা হচ্ছে, তেমনি নিত্যব্যবহার্য কিছু পণ্যের ভ্যাটহার বাড়ানো হচ্ছে। এতে বাড়তে পারে ওইসব পণ্যের দাম। যা ভোক্তাকে ভোগাবে।

পুরনো ভ্যাট আইনে এলপি গ্যাস, গুঁড়া দুধ, গুঁড়া মসলা, টমেটো কেচাপ, চাটনি, ফলের জুস, টয়লেট টিস্যু, টিউবলাইট, চশমার ফ্রেমসহ নিত্যব্যবহার্য ৮৬টি আইটেমের ওপর ট্যারিফ মূল্য ছিল। নতুন আইনে উৎপাদন পর্যায়ে এসব পণ্যে ট্যারিফ মূল্যের পরিবর্তে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।

এ কারণে গুঁড়া দুধের দাম কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা, গুঁড়া মসলা দাম কেজিপ্রতি ২-১০ টাকা, ফলের জুসের দাম ২-৫ টাকা বাড়তে পারে। একই কারণে বাসাবাড়িতে ব্যবহার্য এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়বে।

যেসব পণ্য ও সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট :
গামী বাজেটে মোট ৫৫টি আইটেমের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এসব পণ্যের ওপর আগে ট্যারিফ ভ্যালু ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী, সিআর কয়েল, জিআই ওয়্যার, তারকাঁটা, স্ক্রু, অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী (হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন ইত্যাদি), ব্লেড, ট্রান্সফরমার, টিউবলাইট, চশমার ফ্রেম, সানগ্লাস, রিডিং গ্লাস ও ম্যাটরেস।

এ ছাড়া ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ইনডেনটিং, আসবাবপত্র, লঞ্চের এসি কেবিন, পরিবহন ঠিকাদার, স্বর্ণ ও রুপার জুয়েলারি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও বিদ্যুৎ বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেয়ার প্রস্তাব আসছে নতুন বাজেটে।

এ ছাড়া ভ্যাটের চাপ আসছে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর। নিম্ন থেকে উচ্চমানের প্রতিটি সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হচ্ছে। এ কারণে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়বে। গরিবের বিড়ির মূল্যস্তর ও সম্পূরক শুল্ক দুটোই বাড়ানো প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিল্টারবিহীন হাতে তৈরি ৮, ১২ ও ২৫ শলাকার প্রতি প্যাকেট বিড়ির দাম যথাক্রমে বাড়ানো হচ্ছে ৪৮ পয়সা, ৭২ পয়সা ও দেড় টাকা। সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফিল্টারযুক্ত ১০ ও ২০ শলাকার বিড়ির দাম যথাক্রমে ১ ও দুই টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করার পর ধোঁয়াবিহীন তামাক যেমন জর্দা ও গুলের দামও বাড়বে।

বেশি কথা, বেশি কর : আগামীতে মোবাইল ফোনে কথা বলারও খরচ বাড়বে। বর্তমানে কথা বলার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আদায় করা হয়। বাজেটে সম্পূরক শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। বাজেট ঘোষণার দিন থেকে তা কার্যকর হবে।

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি’র ওপর ভ্যাটের পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলবাস ছাড়া সব ধরনের পরিবহন রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট নবায়ন, ফিটনেস সনদ, মালিকানা সনদ নিতে এবং নবায়ন করতে বিআরটিএ নির্ধারিত সেবামূল্যের ওপর ভ্যাটের পাশাপাশি ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে।

দীর্ঘযাত্রায় যানজট এড়াতে এখন হেলিকপ্টার সেবা জনপ্রিয় হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সেবামূল্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে। আগে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক দিতে হতো। আগামীতে সেখানে ভ্যাটের পাশাপাশি ২৫ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক দিতে হবে।

যারা বাড়িঘর করার কথা ভাবছেন, তাদের জন্যও দুঃসংবাদ আছে। নতুন ভ্যাট আইনের কারণে রডের দাম বাড়বে। বর্তমানে রড উৎপাদন ও বিপণনে টনপ্রতি ৯০০ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। আগামীতে টনপ্রতি রডে ২ হাজার টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপ করা হচ্ছে। অর্থাৎ টনপ্রতি রডের দাম ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা বাড়তে পারে।

 

/কে 

Ads
Ads