এবার ছাত্রলীগ নিয়ে ‘উন্মাদ’ হয়ে গেছেন এমপি জগলুল!

  • ৯-Jun-২০১৯ ০২:৫৫ অপরাহ্ন
Ads

:: উৎপল দাস ::

দেশের সকল সংসদ সদস্যের মধ্যে অতি আতঁলেমির কারণে সমালোচিত এমপি জগলুল হায়দার এবার শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে নিজের পছন্দের লোকদের বসাতে না পেরে উন্মাদ হয়ে গেছেন। সাতক্ষীরা ৪ আসনের এই এমপি দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। কিন্তু জগলুল হায়দারের পছন্দের তিনজন বিতর্কিত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে গত ৭ জুন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক স্বাক্ষরিত ২ সদস্যের শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন পায়। 

১ বছর মেয়াদে নতুন কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন নির্যাচিত ও পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতা সাগর কুমার মণ্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ক্লিন ইমেজের পরিশ্রমী নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নানাভাবে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি এলাকায় নিজের ঘনিষ্ঠ লোকদের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে তিনি ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন, শ্যামনগর কমিটি করার জন্য। কিন্তু রাব্বানী টাকা নিয়েও সেই কাজ করেননি। 

উল্লেখ্য, শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই জেলাকে পাত্তা না দিয়ে কেন্দ্রের মাধ্যমে বিতর্কিত লোকদের নিয়ে কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে জগলুল হায়দার নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সে বৈঠকেই নাকি তিনি রাব্বানীকে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। কাজ আদায় করতে না পারার পর এখন খোদ জগলুল হায়দার নিজেই তার লোকজনদের বলছে, রাব্বানীও কথা রাখেনি, তার নামে আমি আপার (শেখ হাসিনা) কাছে বিচার দিবো।  

এদিকে, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছেন, একজন দলীয় সংসদ সদস্য হয়ে এস এম জগলুল হায়দার যদি এমনটা বলে থাকেন তাহলে তিনিও মিথ্যাচারের চরম অবস্থায় পৌঁছে গেছেন। জগলুল হায়দারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে মানবিক ছাত্রলীগ নেতা রাব্বানী বলেছেন, প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করার কোনো মানে হয় না। তিনি যেসব ছেলেদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন ছাত্রলীগের কমিটির জন্য, তারা সবাই বিতর্কিত। তাই আমি এবং ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন মিলে জেলা ছাত্রলীগকে দায়িত্ব দিয়েছি যেন, বিতর্কিতহীন ও ক্লিন ইমেজের দু’টি ছেলেকে নেতা বানানো হয়। সাগর মণ্ডল এবং মোস্তাফিজের পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের সমর্থন রয়েছে। রাব্বানী আরো বলেন, এমপি জগলুল হায়দারকে অবশ্যই প্রমাণ দিতে হবে যে, আমি তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। নয়তো আমিই ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর দায়ে আপার (শেখ হাসিনা) কাছে বিচার দিবো। কারণ ছাত্রলীগকে কলংকমুক্ত করতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে, কিন্তু কোনো কমিটিতে টাকা খেয়ে নেতা বানানোর জন্য শোভন-রাব্বানী বসেনি বলেও জানান ছাত্রলীগের মেধাবি এই নেতা।

এদিকে ভোরের পাতার অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলা কমিটিতে এমপি জগলুল হায়দারের পছন্দের তালিকায় ৩ জন ছাত্রলীগ নেতার নাম ছিল। তাদের মধ্য থেকে যেকোনো দুইজনকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হলেই তিনি খুশি থাকবেন। কিন্তু তার পছন্দের তালিকার শীর্ষে যে নামটি ছিল তা হচ্ছে- মাদকাসক্ত হাফিজুর রহমান হাফিজ। এরপর আব্দুল হাকিম সবুজ, যার বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। শ্যামনগর ও সুন্দরবনে এমপি জগলুলের হয়ে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে সবুজের বিরুদ্ধে। এছাড়া বাবুল হোসেন ছিল এমপি জগলুলের তৃতীয় পছন্দের লোক। ২০১৩ সালে এই বাবুল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণদলের  মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন কমিটির সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। সর্বশেষ যে ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে চেষ্টা করেছিলেন এম পি জগলুল হায়দার তার নাম এস কে সুজন। তিন মাস আগেও মাছের ঘের দখল ও নারী ধর্ষণ মামলার আসামি হিসাবে জেল খেটেছেন। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে মাটি কেটে আলোচনায় আসা প্রকৃত পক্ষে শো অফ বা স্ট্যান্ডবাজির রাজনীতির উজ্জ্বলতম সংস্করণ জগলুল হায়দারকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এমনকি তার ব্যক্তিগত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

Ads
Ads