মগবাজারে বাসের ধাক্কায় বাইক আরোহী নিহত, বাসে আগুন

  • ৩-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেটের পাশে এসপি গোল্ডেন লিমিটেড নামের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। তার নাম সাইফুল ইসলাম রানা (৩০)।

শুক্রবার (০৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং মালিকদের গাড়ি না নামানোর মধ্যে শুক্রবার ঢাকার সড়কে গণপরিবহণ চলাচল খুব কম।  এর মধ্যে দুপুরে মগবাজারের ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসটি ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার সময় বাসটির চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, নামাজের শেষ করে এই সড়ক দিয়ে অনেকে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ঝ ১৪-০২১৪) মানুষের উপর তুলে দেয়। এ সময় বাসটি একটি মোটরসাইকেল এবং একটি রিকশার উপর দিয়ে চলে যায়।

‘এতে দুইজনের তাদের মাথা ফেটে রক্ত বের হতেও দেখা যায়। এর মধ্যে মোটরসাইকেল চালকের মাথার উপর দিয়ে বাসের চাকা চলে যায়। যেভাবে সে আহত হয়েছে তার বেঁচে থাকার কথা না।’

পরে সেখান থেকে আহত দুই জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়া হয় এবং সেখানকার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া নিশ্চিত করেন, সাইফুল মারা গেছেন।

‘চিকিৎসকরা জানিয়েছে মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম মারা গেছে।’

আগুন দেয়ার পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। বাহিনীটির ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন জানান, ‘আমরা খবর পেয়েছি সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছি।’

নিহতের খালা রোকসানা হক লাশ শনাক্ত করেছেন। তার বাড়ি পিরোজপুরের স্বরুপকাঠী উপজেলার শেরেবাংলা বাজার। তিনি শাহজাহান মিয়ার একমাত্র ছেলে। তারা ঢাকার খিলগাঁওয়ের উত্তর গোড়ানে থাকতেন। তারা দুই বোন ও এক ভাই।

রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, ‘মগবাজারে দুর্ঘটনার পর বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা এই বাসটিতে আগুন দিয়েছে, সেটি বলা যাচ্ছে না৷ বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর বলা যাবে।’

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা বাসে আগুন দেয়নি। তারা দাবি করছে, বহিরাগতরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায়  সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।  গত পাঁচ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে।

বুধবার (১ আগস্ট) বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে  বৈঠক করে  শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার কথা জানানো হয়। ছুটি ঘোষণার পর বৃহস্পতিবারও তারা আন্দোলন করে।

/ই

Ads
Ads