বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

  • ৫-Jun-২০১৯ ১২:০৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে নামাজ শেষে মোনাজাতে বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বুধবার (০৫ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় দিনাজপুর বড় ময়দানে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বড় ঈদগাহ মিনার নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও দিনাজপুরে আবহাওয়া ছিল স্বাভাবিক। তাই সকাল থেকেই বড় ময়দান অভিমুখে মুসল্লিদের ঢল নামে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নামাজের জামাত। পরে জামাতে অংশগ্রহণকারীরা কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

হুইপ ইকবালুর রহিম জানান, দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত দিনাজপুর বড় ময়দানে অনুষ্ঠিত হল। এখানে প্রায় ৬ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন। যা দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত।

এদিকে ঈদ জামাতকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুরো শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। ভোরের আগেই শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের যানবাহন চলাচল। ফলে মুসল্লিদের পায়ে হেঁটে শোলাকিয়া মাঠে যেতে হয়। শোলাকিয়া মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কার্যকর করা হয় চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও দেশের কয়েকটি স্থানে হামলা এবং এর আগে ২০১৬ সালে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তার বিষয়গুলো সাজানো হয়েছে।

সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়া মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষকে সামলাতে একবারের জন্যও পুলিশকে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়নি। সবাই ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জামাতে অংশ নিয়েছেন।’

শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে এবার পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, এক হাজার ২০০ পুলিশ, ১০০ র্যা ব, এপিবিএন ও বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিশ্চিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোষাকে নজরদারি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

এছাড়াও মাঠসহ প্রবেশ পথগুলোতে বসানো সিসি ক্যামেরা ও ১২টি ওয়াচ টাওয়ার। এবার সুর্নিদিষ্ট ৩২টি গেট দিয়ে দেহ তল্লাশির পর মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় মুসল্লিদের। নজদারিতে আকাশে টহল দিয়ে বেড়ায় ড্রোন ক্যামেরা। মাঠের নিরাপত্তায় প্রস্তুত রাখা হয় মাইন সুপিং ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশি করা হয় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। আর প্রথমবারের মতো ওয়াচ টাওয়ারগুলোতে স্নাইপিং রাইফেল নিয়ে দায়িত্ব পালন করে র্যা বের স্নাইপাররা।

রেওয়াজ অনুযায়ী, শোলাকিয়ায় জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হয়। গুলির শব্দের সংকেত পেয়ে শুরু হয় ঈদের জামাত।

Ads
Ads