নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • ২৯-মে-২০১৯ ০৪:০২ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে রপ্তানিমুখী খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৯ মে) দেশটির রাজধানী টোকিওতে হোটেল ওতানিতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ীদের একটি ফোরামে দেয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য দেখতে চাই। এক্ষেত্রে জাপারি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে রপ্তানি কেন্দ্রিক খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের আহ্বান জানাই।  
 
বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যকার চমৎকার দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে সকল সম্ভবনা কাজে লাগানোর আমন্ত্রণ জানাই।

জাপানের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অঞ্চলসহ বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যয়, মানবসম্পদ, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার-বাণিজ্য সুবিধার দিক বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশ দ্রুত উদীয়মান এবং বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্থান।’

‘গত বছরে জাপানের টোবাকোর ১ দশমিক ৪ মার্কিন ডলারের বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। জাপানের কাছ থেকে এমন আরো বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছি’, -যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সাফল্য বিশ্বব্যাপী পারিচিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ হিসেবে চীনের পরে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

তিনি বলেন, জাপানে প্রথম রপ্তানি পণ্যই হলো পোশাক। আমরা আমাদের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখিতা দেখতে চাই। তাই রপ্তানিযোগ্য পণ্যের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন খাত আবিষ্কার করতে আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

গুণগতমান সম্পন্ন ওষুধের জন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকাসহ পৃথিবীর ১০০টিরও বেশি দেশে এখন বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপসহ ১৪টি দেশে কার্গো ও যাত্রিবাহী জাহাজ সরবরাহ করছে বাংলাদেশ।

সফটওয়্যারকে বাংলাদেশের আরেকটি উদীয়মান খাত হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ৮০০টি সফটওয়্যার ও আইটি কোম্পানির মধ্যে ১৫০টি বিশেষায়িত, যারা বিদেশি গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি আইটি বিশেষজ্ঞ মাইক্রোসফট, ইন্টেল, আইবিএম, ওরাকল ও সিস্কোসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অবগত হয়েছি যে, জাপানের বাজারে আইটিইএস (আইটি সেবা) পণ্যের বড় বাজার রয়েছে।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ আজিজ খান বক্তব্য দেন।

অপরদিকে জাপানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে জাপান বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্সিয়াল অ্যান্ড কোঅপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারপারসন তেরুও আসাদা, জাইকা এক্সিকিউটিভ সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজুহিকো কোশিকাওয়া, জেইটিআরও প্রেসিডেন্ট ইয়াসুশি আকাহোশি, সুমিতোমো করপোরেশনের সভাপতি ও সিইও মাসায়াউকি হায়োডো, মিটসুই ও কো লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাইনসুইক ফুজি, সজিটজ কর্পোরেশনের সিনিয়র ম্যানেজিং এক্সিকিউটিভ অফিসার রিওতারো হিরায়, মিটসুবিশি মোটরসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াউজিরো কোবাশি, হোন্ডা মোটর কো. লিমিটেডের ম্যানেজিং অফিসার নোরিয়াকি আবে ও মারুহিসা কোম্পাইন লিমিটেডের কিমিনোবু হিরায়শি বক্তব্য দেন।

 

/কে 

Ads
Ads