ঢাবিতে হিজড়াদের নিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলো বৃহন্নলা

  • ২৩-মে-২০১৯ ০১:২৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

উৎপল দাস 

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হিজড়াদের (তৃতীয় লিঙ্গ) সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলো সামাজিক সংগঠন বৃহন্নলা। 
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনিসস্টিটিউট (আইইআর) এ বৃহন্নলা আয়োজি তইফতার ফর ইনক্লুসন শিরোনামে এই ইফতার মাহফিলে ৮০ জন হিজড়াকে কাপড় দিয়ে সম্মানও জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে হিজড়াদের বুকে টেনে নিয়েছেন সেখানে ঢাবির বৃহন্নলা সংগঠনটি তাদের ইফতার মাহফিলে ডেকে এনে সম্মানিত করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের নব নিযুক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান, যিনি হিজড়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনের সাথে অভ্যস্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও প্রভাবশালী সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলির ডেইজি সারোয়ার, ঢাবির আই ই আর'র পরিচালক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার, বৃহন্নলার প্রধান উপদেষ্টা এবং আই ই আর'র বিশেষ শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মু. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, হিজরাদের গুরুমা মুক্তা হিজড়া। 

বৃহন্নলার সভাপতি সাদিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রুমান হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তরা বলেন, হিজড়া বা তৃতীয় সম্প্রদায়ের লোকজন জন্ম থেকে মৃতু্যর আগ পর্যন্ত এই সমাজে অবহেলিত। কিন্তু আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে তাদের বুকে টেনে নিয়েছেন সেখানে আমাদের সবারই উচিত ইতিবাচকভাবে তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা স্বীকার করা। এটি করতে পারলেই ভবিষ্যতে হিজড়াদের কেউ অন্যচোখে দেখবে না। তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন থেকে শুরু করে একটু মানবিক আচরণেই বদলে যেতে পারে হিজড়াদের ভাগ্য। আর সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্যই সামাজিক সংগঠন হিসাবে বৃহন্নলা গত দেড় বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছন সংগঠনের নেতারা। 

অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাহসী নারী কাউন্সিলর ডেইজি সারোয়ার, যিনি বরাবরই সমালোচনাকে উপেক্ষা করে অনেক মহতী কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর। কোনো কিছু চাওয়া পাওয়া থেকে নয়, সাবেক প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে যাচ্ছেন নিয়মিত। এছাড়া শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, যিনি বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনার হিজড়াদের পাশে থাকা তার দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো হিজড়া যেন নিগৃহীত না হন, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা উপ সম্পাদক হাসানুর রহমান হাসু এবং ঢাবির জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হল সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস,  আরো অনেকে এই মহতী অনুষ্ঠানটি  এই পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যমনি হিসাবে প্রায় ৮০ জন হিজড়াকে সম্মাননা দেয়ার মাধ্যমে বৃহন্নলা এবং ঢাবিতে আজ নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। 


 

Ads
Ads