দরিদ্র পরিবারকে অনুদান দিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. ফেরদৌস খান

  • ২২-মে-২০১৯ ০৮:২৯ অপরাহ্ন
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

রাজধানীতে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত ফুটপাতে জীবন-যাপন করছেন হেলেনা বেগমসহ তার পরিবার।তার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. ফেরদৌস খান।

আজ বুধবার (২২ মে) জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. ফেরদৌস খান বলেন, বর্তমান সরকার কিছু বাস্তবিক পদক্ষেপ ও প্রকল্প গ্রহন করে নিরিহ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী  দরিদ্র মানুষদের জীবনধারা পরিবর্তন করার জন্য একাধিক ধরণের সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ করা হয়েছে- বয়স্ক ভাতা , দরিদ্র ছাত্রদের বৃত্তি, প্রতিবন্দী অন্যান্যদের মধ্যে ভাতা প্রদান করা’।তাঁর অফিসে (জেলা প্রশাসক কার্যালয়) ভিক্ষুক পরিবারদের কে ‘দশ হাজার’ টাকা দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে  মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল আউয়াল, সহকারী কমিশনার মো.শহীদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ), সালমা খাতুন, সহকারী পরিচালক, সামাজিক সেবা বিভাগের সহকারী পরিচালক জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ ।গত ২১ মে প্রকাশিত  একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়  ছবিটি দেখে  একজন  অক্ষম মা তার ছোট মেয়েকে রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে থাকা  অবস্থায়  শিশুর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য দড়ি দিয়ে বাঁধে রাখেন। পরে ছবিটি জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং ডিসি তাদের জীবনধারা পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেয়।তিনি পরামর্শ দেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সামাজিক সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা শারীরিক প্রতিবন্দী  মানুষের শ্রেণী ভাতা প্রদার করবে।হেলেনা বেগম ও তার স্বামী আবুল হোসেন ডিসি অফিসে উপস্থিত ছিলেন। তাদের তিন সন্তান শফিক (১১), রাফিক (৬) এবং তিন বছর বয়সী রহিমা একটি মেয়ে।

ডিসি ফেরদৌস খান তাদের ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে বরিশালের তাদের বাড়িটি (যেখানে তারা ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়) তাদের কাছে এক টুকরা জমি সরবরাহ নিশ্চিত করবে। তারা ঢাকা শহরে থাকতে চাইলেও তিনি তাদের জীবিকা হিসাবে একটি ছোট ব্যবসা চালু করার জন্য নিশ্চিত করবেন।সামাজিক সেবা বিভাগের উদ্বোধনকারী ড্রপ ইন সেন্টারের মানুষ নিরস্ত্র পরিবারের সন্তানদের উত্থাপিত হবে।সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল আওয়াল উল্লেখ করে বলেন, তারা আর্থিক সহায়তা থেকে মানসিক পরামর্শের সকল সহায়তা নিশ্চিত করবে।আরো বলেন তারা যদি তাদের  পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যেতে চান সরকারের পক্ষ থেকে নিরস্ত্র পরিবারটিকে যতটুকু জমি দিয়ে সহযোগিতা করা যায়;আমরা তা সরকারের পক্ষ  থেকে যতটুকু সম্ভব তাদের করবো।‘কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা যেতে ইচ্ছুক হচ্ছে না।

তারপরও আমরা চেষ্টা করছি তারা কি চায় জানতে।সামাজিক সেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, দেশের অক্ষম মানুষের সংখ্যা গণনা করার জন্য মন্ত্রণালয় একটি জরিপ পরিচালনা করেছে।জরিপে দেখা গেছে যে দেশের প্রায় ১৬ লাখ মানুষ শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জ করে এবং তাদের একাধিক ফর্ম রয়েছে।

সালমা বলেন, ইতোমধ্যে সরকার এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৮০ শতাংশ শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জগ্রস্থ মানুষকে আচ্ছাদিত করেছে এবং বাকি ২০ শতাংশকে দুই বছরের মধ্যে এই সার্ভিসের অধীনে আনা হবে।এই পরিকল্পনার অধীনে, কোনও অক্ষম ব্যক্তি যদি কোন উদ্যোক্তা হতে চায় তবে একজন ভিক্ষুক বা অক্ষম ব্যক্তি সুদ মুক্ত ঋণ পেতে পারেন।বর্তমানে সরকার প্রতিটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে ৭০০ টাকা প্রদান করে। আগামী অর্থবছর থেকে অর্থের পরিমাণ ৭৫০ টাকা হবে, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সুবিধা পাবে।

Ads
Ads