বোরো ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক অর্ধেক ধান দিতে হচেছ শ্রমিককে!

  • ২২-মে-২০১৯ ০৮:২৪ অপরাহ্ন
Ads

:: মাসুদ রানা, পত্নীতলা (নওগাঁ ) প্রতিনিধি ::

নওগাঁর পত্নীতলা  উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন পাকা ধানের ছড়াছড়ি। তবে ধান কাটা শ্রমিক সংকটে কৃষকের কপালে ভাঁজ পড়েছে। কারণ ধানের দাম কম আর শ্রমিকের মজুরী বেশি। প্রায় এক, দেড় মণ ধানের দামে মিলছে একজন শ্রমিক। নিরূপায় হয়ে বাড়তি টাকা দিয়েই শ্রমিক লাগিয়ে তারা ধান কাটছেন অনেকে নিজেই ধান কাটছেন। ফলে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও বাড়তি ব্যয়ের জন্য লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার নাদৌড়  গ্রামের কৃষক সামসদ্দীন বলেন, আমি ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না , বাধ্য হয়ে ছেলেকে সাথে নিয়ে নিজেই ধান কাটছি, প্রতি বিঘাতে প্রায় ২৫ মণ করে ধান হয়েছে।  উপজেলার বরট্রি এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে ইরি, বোরো ধান চাষ করেছেন।

শ্রমিক না পাওয়ায় এখনো জমির সব ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেননি। কৃষক মোতাহার জানান  ধানের ফলন ভালো তবে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে, এই বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের আরো বেশি লোকসানে পড়তে হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকের অভাবে বোরো ধান কাটা নিয়ে তারা পড়েছেন বিপাকে। একজন শ্রমিকের মুজরি দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। শ্রমিক সংকট তীব্র হওয়ায় এমন মুজরি দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

পত্নীতলা  উপজেলা এলাকায় বেশি শ্রমিক পাওয়া যায় না তাই পাবনা, সিরাজগন্জ সহ  বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শ্রমিক এসে কাজ করছেন ,খুচরা শ্রমিক চড়াদামেও মিলছে না, চুক্তিতে  ১মণ ধান কাটতে ১২ কেজি থেকে ২০ কেজি র্পযন্ত দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের কে, অর্থাৎ অর্ধেক ধান দিতে হচ্ছে শ্রমিকের পারিশ্রমিক। পাবনা থেকে আগত শ্রমিক ইউসুফ ব্যাপারী বলেন  প্রতি দিন একজন শ্রমিক ১মণ থেকে দেড়মণ ধান পাচ্ছি, তবে তিনি জানান তীব্র গরমে তাদরে অনেক কষ্ঠ হচ্ছে।  

এসব ধান স্থানীয় বাজারে  বিক্রী হচ্ছে  ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা মণ। কোনোভাবেই ক্ষেত গিরাস্থীর হিসাব মিলানো যায় না’। উপজেলা ১১টি ইউনিযন ১ টি পৌরসভায়  প্রায় ৫০ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়েছে। উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন ধানের দাম বাড়বে , তবে জন মনে প্রশ্ন কবে বাড়বে এই দাম , প্রান্তিক চাষী ,বর্গা চাষী যারা তারা তো ধান রাখতে পারে না। ধানের দাম নিয়ে  হতাশ ,দিশেহারা  কৃষককুল।  

এ ব্যাপারে পত্নীতলা  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রকাশ চন্দ্র সরকার  বলেন, চলতি বোরো মওসুমে উপজেলায় ২০৮৪৫  হেক্টর জমিতে ইরি  বোরো ধান চাষ হয়েছে।  ধান ভাল হয়েছে  কিন্তু  ঘূর্ণী ঝড় ফণীর প্রভাবে ২৭০০ হেক্টর জমির ধান মটির সাথে নুয়ে পরে ফলে এসব ধান কাটতে শ্রমিক  মজুরি  বেশি দিতে হচ্ছে । 

Ads
Ads