স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি: দুদকের পরামর্শ গুরুত্ব দিতে হবে

  • ১৬-মে-২০১৯ ১০:২৫ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

দেশের মানুষ কোন সেবা খাতটির কাছে জিম্মি হয়ে আছে এমন প্রশ্ন যদি কাউকে করা হয় তাহলে যে কয়টি নাম আসবে তার অগ্রভাগেই থাকবে স্বাস্থ্য খাত। কেননা, দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। অথচ অতি জরুরি এ খাতে অনিয়মের কোনো সীমাপরিসীমা নেই। দুর্নীতির অক্টোপাসে জড়িয়ে আছে এ খাত। আর তাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির ১১টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু চিহ্নিতই করা হয়নি এসব বন্ধের লক্ষ্যে ২৭ দফা সুপারিশও আছে এতে। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করেছেন দুদক চেয়ারম্যান।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুর্নীতির উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি সংক্রান্ত; প্রত্যন্ত এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে চিকিৎসকদের অনাগ্রহ, প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে নীতিমালা অগ্রাহ্য, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকায় স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলা, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চালনায় দক্ষ জনবল নিয়োগ না হলেও যন্ত্রপাতি সরবরাহ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও মেরামত ব্যয়ের নামে অর্থ আত্মসাৎ, প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ক্রয় ইত্যাদি।

এ সত্য গোপন করার কোনোই সুযোগ নেই যে, একমাত্র দুর্নীতিই হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান অন্তরায়। স্বাস্থ্য খাতসহ দেশে বিরাজমান সকল খাতের দুর্নীতির বিস্তৃতি আগাগোড়া মুড়িয়ে দিতে হলে এমন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা উচিত, যাতে দুর্নীতিবাজরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়েও বেরিয়ে যেতে না পারে। একদিকে দেশের গরিব জনগণ অর্থের টানাপড়েনের কারণে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারবে না অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের কতিপয় ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে ফুলে-ফেঁপে উঠবে, এটি চলতে পারে না।

আমরা মনে করি, এ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে দুদকের পরামর্শগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন ও মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এটাও বুঝি যে, এটা করতে গেলে এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ চিকিৎসকরা দেশের গরিব চিকিৎসাপ্রার্থী জনগণকে জিম্মি করে তা প্রতিরোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠবে এবং আন্দোলনে যাবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের দ্বারা তেমন (যদি তা ঘটে) কিছু হলে সরকার শক্তহাতে দমন করবে, সেটাই প্রত্যাশিত। তাদের কোনো অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত করবে না সেক্ষেত্রে সেটাই আমরা দেখতে চাই। দুদকের সুপারিশগুলো যদি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় তাহলে আমাদের বিশ^াস, এতোদিন ধরে এই স্বাস্থ্য খাতটি ঘিরে যে কলঙ্কের বিস্তৃতি ঘটে চলেছে তা অচিরেই দূর হবে।   

Ads
Ads