মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

  • ১৫-মে-২০১৯ ০৩:২৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মাথাপিছু আয়ের হিসাবে আগামী এক দশকে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬০০ ডলার।

২০৩০ সালে এই আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৭০০ ডলার। একই সময়ে ভারতে মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ৪০০ ডলার। যদিও বর্তমানে ভারতে মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে ভারতে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৯০০ ডলার।

বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এক গবেষণায় এ চিত্র ওঠে এসেছে। স্ট্যানচার্টের ভারতভিত্তিক গবেষণা শাখার প্রধান মাধুর ঝা এবং সারা বিশ্বে ব্যাংকটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড ম্যান এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, অর্থনীতির বিচারে আগামী দশক হবে এশিয়ার এবং এই মহাদেশের দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হবে খুবই উল্লেখযোগ্য। অর্থনীতির বিচারে আগামী দশক হবে এশিয়ার এবং শীর্ষ ৭ অর্থনীতির দেশের মধ্যে থাকবে মহাদেশের ৫টি দেশ- বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। ওই ৫ দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে স্থিতিশীল থাকবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে সবচেয়ে বেশি, কারণ এসব দেশের লোকসংখ্যা হবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। এই বিশাল জনসংখ্যা ভারতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বিনিয়োগ থেকে সুফল পেতে শুরু করবে বাংলাদেশ- যা তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয়দের চেয়ে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে বাংলাদেশিরা। এসময় ভারতের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৪০০ ডলারে। একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আরও ৩০০ ডলার বেড়ে দাঁড়াবে ৫ হাজার ৭০০-তে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি ঘটবে ভিয়েতনামে। বলা হচ্ছে, তাদের হিসাবে ২০৩০ সালে দেশটির মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১০ হাজার ৪০০ ডলার যেখানে গত বছর এই আয় ছিল ২ হাজার ৫০০ ডলার। মিয়ানমারে বর্তমানে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩০০ ডলার এবং ২০৩০ সালে তাদের এই আয় দাঁড়াবে ৪ হাজার ৮০০ ডলার।

গবেষক মাধুর ঝা এবং ডেভিড ম্যান বলছেন, দ্রুত এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশগুলোতে আয়ের বৈষম্য, অপরাধ, দূষণ এসব ব্যাপারেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। দ্রুত প্রবৃদ্ধি যে জনগণকে শুধু চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে সাহায্য করে তা নয়, এর সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। দ্রুত প্রবৃদ্ধির ফলে মানুষের আয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও কমে আসে। এর ফলে অনেক ধরনের সংস্কারের কাজও সহজ হয়ে পড়ে।

 

/কে

Ads
Ads