ছাত্রলীগে বিদ্রোহ: দুই নারী নেত্রীর ওপর হামলা, মারামারি চলছে

  • ১৩-মে-২০১৯ ০৮:০০ অপরাহ্ন
Ads

সিনিয়র প্রতিবেদক

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পরই কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন। যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের মূল্যায়ণ না করায় এবং পদবঞ্চিতরা ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগেরই পদপ্রাপ্ত নেতারা। এ রিপোর্ট লেখার সময় সন্ধ্যা ৭ টা ৫৬ মিনিটে মধুর ক্যান্টিনের ভিতরে মারামারি চলছে বলে জানিয়েছে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী। 

সোমবার বিকালে কমিটি ঘোষণার পর পরই সাবেক কমিটির উপ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এবং নতুন কমিটিতে উপ-কর্মসূচী ও পরিকল্পনা পদ দেয়ায় সেই পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আল মামুন। এছাড়াও কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া আরো কয়েকজন পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন। 
এরপর পদবঞ্চিত অনেকেই ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে মিছিল বের করতে চাইলে হাকিম চত্বরে তাদের বাধা দেয় ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সহ-সভাপতি সাদিক খান। যে সাদিক খানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি বিবাহিত হওয়ার পরও এ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। 
এ হামলায় বর্তমান কমিটিতে সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ সম্পাদক এবং ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার এবং  ডাকসুর ক্যাফেটিরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তার এছাড়া এ হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। 

এ সময় নতুন কমিটি তে পদ পাওয়া নেতাদের হামলার শিকার হয়েছে পদ বঞ্চিত দুই নরী নেত্রী সহ  প্রায় দশজন।

হামলার বিষয়ে তিলোত্তমা শিকদার বলেন " আমি বর্তমানে ডাকসুর সদস্য, এবং সাবেক কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক থাকার পরও আজ যে কমিটি দিয়েছে সে কমিটিতে আমাকে আবারও উপ সম্পাদক হিসেবে রেখেছে। যেখানে সহ সভাপতি পদে এমনো আছে যারা বিবাহিত, এবং ছাত্রলীগে আগে কোন পদ ছিলনা, তাই আমরা এই কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে মধুর কেন্টিনে অবস্থান করলে, সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ সভাপতি সাদিক খান, যুগ্ন সম্পাদক আল ইমরান,  সম্পাদক রাকিব হোসেন, ডাকসুর এফ রহমান হলের জিএস রহিম আমাদের উপর হামলা করে।  হামলায় ডাকসুর কেন্দ্রীয় কমিটির কেফ্যেট্যরিয়া বিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তার সহ দশ জন আাহত হয়। তিনি আরো বলেন আপা ( শেখ হাসিনা)  তো এ ছাত্রলীগ চায়নি, আমরা নতুন কমিটির  দাবি করছি। 

সদ্যসাবেক কমিটির  প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, আমি গত কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলাম কিন্তু এই কমিটিতে আমার নামই নেই, আমার মত এমন বহু সম্পাদক কে বাদ দেওয়া হয়েছে। শোভন রাব্বানী নিজেদের নিজস্ব মাইম্যান দিয়ে পকেট কমিটি দিছে। আমরা এ কমিটি বাতিল করে পূনরায় নতুন কমিটি চাই।
এবিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সন্ধ্যা ৭ টা ২৪ মিনিটে ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ব্যবহৃত ৪ টি ফোন নম্বরের মধ্যে ৩ টি বন্ধ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটে একটি নম্বরে ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। 

Ads
Ads