যে দুই কারণে আটকে আছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

  • ১৩-মে-২০১৯ ০১:২৬ পূর্বাহ্ণ
Ads

উৎপল দাস

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলনের ১ বছর পেরিয়ে গেলেও খোদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ অভিভাবক শেখ হাসিনার মনোনীত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে না পারার ব্যর্থতায় নানা সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তু শোভন রাব্বানীর আন্তারিকতা থাকার পরও মূলত দুই কারণে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হচ্ছে না। এই দুইটি কারণ সন্ধানে ভোরের পাতার পক্ষ থেকে গত কয়েক মাসে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। 

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির দু'টি খসড়া ইতিমধ্যে জমা হয়েছে। তার মধ্যে একটি জমা দিয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। আরেকটি জমা দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন এই চার নেতার মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হোক। 

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দেড় মাস ধরে ছাত্রলীগের সাবেক কমিটি ও বর্তমান কমিটির শীর্ষ দুই নেতা কমপক্ষে ৯ বার কমিটি করা নিয়ে বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। এমনকি সাবকে দুই শীর্ষ নেতা যেসব পোস্টে তাদের নিজস্ব লোক (মাইম্যান) বসাতে চাচ্ছেন তা মেনে নিতে পারছেন না বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। 

এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে  ছাত্রলীগের কমিটি করার জন্য যে দায়িত্ব শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন, তারাও তা পূরণ করতে পারেননি। এমনকি চার নেতার মধ্যে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। 

এরিমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রলীগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলেছেন, ছাত্রলীগের এই কমিটি যদি তার কথা মতো না চলে তবে সেই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করবেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে দুইটি কারণ ভোরের পাতার এ প্রতিবেদক জানিয়ে দেয়ার পর তিনি অন্যভাবে ভাবতে শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি এমনটাই হয়ে থাকে তবে তিনি ব্যবস্থা নিবেন এবং ঈদের পরই নিজে উদ্যোগী হয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিবেন। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতাকে বাদ দিয়েই যারা ইচ্ছে করেই এমনটা করছেন এবং ছাত্রলীগ নিয়ে ভাবেন এমন কাউকে বর্তমান ছাত্রলীগের দুই নেতার সঙ্গে বসিয়ে কমিটি করার কথাও বলেছেন। 

এদিকে, ভোরের পাতার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন তাদের মাইম্যান নিজেদের পছন্দের পোস্টে বসাতে না করার কারণেই কমিটি করতে ভাগড়া দিচ্ছেন। এটি একটি মূল বাঁধা ছাত্রলীগের কমিটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে। 

অন্য যে কারণটি ভোরের পাতার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সেটি হচ্ছে- বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যে খসড়া তালিকা জমা দিয়েছেন সেখানে কমপক্ষে  ২৮ জন বিতর্কিতকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। 

এই দুইটি বিষয় সমাধান হওয়ার পর যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ অভিভাবক শেখ হাসিনা অনুমোদন দেয়ার পরই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। এক্ষেত্রে ছাত্রলীগের কমিটি হতে সময় লাগতে পারে কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা ভোরের পাতাকে বলেন, সম্ভবত এটা এই ঈদের পরই হতে পারে। 


 

Ads
Ads