ভালুকের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত কিশোরকে বাঁচানোর চেষ্টায় সেনাবাহিনী

  • ১২-মে-২০১৯ ০৯:৫১ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাঙ্গামাটি জেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড় এলাকায় ভাল্লুকের আক্রমণে জখম হওয়া এক কিশোরকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

রোববার (১২ মে) দুপুর সোয়া ২টার দিকে আহত কিশোরকে নিয়ে রাঙ্গামাটি থেকে আসা হেলিকপ্টারটি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবতরণ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা ওই কিশোরকে হেলিকপ্টার থেকে নামিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন।

বাঁচার আশা দেখছে হিংস্র ভালুকের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত শিশু পণবিকাশ ত্রিপুরা (১৬)। তার বাড়ি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম সীমান্তবর্তী গ্রাম নিওথাংনাং বেটলিং। শুক্রবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে খেলতে গিয়ে বন্য ভালুকের কামড়ে গুরুতর আহত হয় সে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার সুচিকিৎসার কোনো সুযোগ ছিলো না। সংবাদ পেয়ে আক্রান্ত বালকটিকে নিকটস্থ সীমান্ত ফাঁড়িতে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় বিজিবি। পরবর্তীতে ক্ষতস্থানে সংক্রমণের আশংকায় তাকে রবিবার সকালে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

আহত শিশুটির পিতা অলিন্দ্র ত্রিপুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভালুকের কামড়ে পণবিকাশের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত হয়ে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। মনে করেছিলাম ছেলেকে আর বাঁচাতে পারবো না। ওকে নিয়ে প্রথমে বিজিবির ফাঁড়িতে যাই। বিজিবির কাছ থেকে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে আমার ছেলেকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসেছে। বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর কাছে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার ছেলে যেন সুস্থ হয়ে ওঠে সেজন্য সবাই আশীর্বাদ করবেন।’

পণবিকাশের সঙ্গে হেলিকপ্টারে আসা তার চাচাতো ভাই হরেন বিকাশ ত্রিপুরা জানান, গত শুক্রবার (১০ মে) তাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুইঘণ্টার হাঁটা পথের সমান দূরত্বে জঙ্গলে বাবার সঙ্গে জুমচাষ করতে গিয়েছিল পণবিকাশ। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কাজ শেষ করে ফেরার পথে পণবিকাশের ওপর একটি হিংস্র ভাল্লুক ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভাল্লুকের থাবায় পণবিকাশের বেশ কয়েকটি দাঁত পড়ে গেছে। এছাড়া ভাল্লুকের আঁচড়ে পণবিকাশে মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক জখম হয়েছে।

হরেন ত্রিপুরা বলেন, ‘গাড়ির রাস্তা থেকে আমাদের বাড়িতে হেঁটে যেতে সময় লাগে চারদিন। আমাদের এলাকায় কোনো হাসপাতাল নেই, ডাক্তার নেই। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা পাওয়ায় আশা করছি আমার ভাইকে বাঁচানো সম্ভব হবে।’

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকাগুলোতে উন্নত হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। কেউ অসুস্থ হলে কবিরাজ, বৈদ্যরাই ঝাঁড়ফুক বা টোটকা চিকিৎসা দেন। তবে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় দুর্গম এলাকার অনেক মুমূর্ষু রোগী উন্নত চিকিৎসা লাভ করে জীবন ফিরে পেয়েছেন।

সেনা কর্মকর্তারা জানান, যথাসময়ে সংবাদ পাওয়া সাপেক্ষে সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রোগীকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সম্প্রতি সোনাপতি চাকমা ও জতনি তঞ্চঙ্গ্যা নামে দুই প্রসূতি নারীকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসে সেনাবাহিনী।

 

/কে 

Ads
Ads