জাতীয় সংসদের কর্মচারী নুরুদ্দিনের সম্পদের পাহাড়, অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে

  • ১১-মে-২০১৯ ১০:২০ PM
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

জাতীয় সংসদের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নুরুদ্দিন বাদলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, অর্থপাচার, চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসা করা এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে দেয়া এক চিঠিতে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। 

সম্প্রতি নিয়ামত হোসেন নামে একজন নুরুদ্দিন বাদলের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগটি জমা দেন। চিঠিতে বলা হয়,  তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারী হয়েও তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। জাতীয় সংসদের কর্মচারী হওয়ায় ভূয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেন। কখনো মন্ত্রীর ঘনিষ্ট, কখনো এমপির ঘনিষ্ট এমন কথা বলে নানা প্রলোভন দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাত করেন তিনি। এভাবে প্রতারণা করে অর্থের পাহাড় গড়েছেন তিনি। নুরুদ্দিন ঢাকায় বসবাস করেন আগারগাঁওয়ের সরকারি কোয়ার্টারে। গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর। মানুষকে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত করা তার নানা অপকর্মের একটি। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের স্টিকার বিক্রির কারবার করেন। 

এভাবে অর্জিত বিপুল অবৈধ টাকা দিয়ে নুরুদ্দিন বাদল ডেভেলপার কোম্পানি খুলেছেন। কোম্পানির নাম অ্যাচিভ রিয়েল এস্টেট। এটি চালায় ভায়রা হারুন অর রশিদ। কোম্পানির রেজিস্ট্রেশনও তিনি এই হারুন অর রশিদের নামেই করেছেন। এই রিয়েল এস্টেট কোম্পানিটির অফিসও আগারগাঁও এলাকায়। এই কোম্পানি দিয়েও নানা প্রতারণা করেছে চলেছেন নুরুদ্দিন বাদল। মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেন না। টাকা আত্মসাত করেন। 

দুদকের জমা দেয়া অভিযোগে বলা হয়, নুরুদ্দিন বাদল অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। অর্থাৎ তিনি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। অ্যাচিভ রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মাধ্যমে তিনি বিদেশে টাকা পাচার করছেন। এই পাচারকৃত টাকা দিয়ে তিনি আফ্রিকার দেশ সোয়াজিল্যান্ডে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। সোয়াজিল্যান্ডের এই ব্যবসা দেখাশোনা করেন ভায়রা হারুন অর রশিদের ভাই। এছাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকায় লেবেল তৈরির কারখানাও রয়েছে নুরুদ্দিন বাদলের। কাগজে-কলমে এই কারখানার এমডি ভায়রা হারুন অর রশিদ। এছাড়া স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নামে নিজ জেলায় সুবিশাল বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। নামে-বেনামে ব্যাংকে রয়েছে এফডিআর এবং মাসিক সঞ্চয়। ঢাকা শহরে কিনেছেন আলিশান ফ্ল্যাট। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে নুরুদ্দিন বাদল বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। এক সময় জাতীয় সংসদের সাংবাদিক গ্যালারিতে সিকিউরিটির দায়িত্ব পালন করতাম। তাই অনেক সাংবাদিকদের সাথেই আমার ভাল জানাশোনা আছে। এরপর তিনি কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকের নাম বলেন।

Ads
Ads