বার্ডের পটভূমি ও এর সৌন্দর্যময় পরিবেশ

  • ১১-মে-২০১৯ ০৮:২৫ অপরাহ্ন
Ads

:: মাছুম কামাল ::

পটভূমি: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বার্ড ১৯৫৯ সালের ২৭শে মে তৎকালীন সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত বিএইড(VAID) প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রামের অবহেলিত জনমানুষের সমস্যাসহ গ্রামের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তান গ্রাম উন্নয়ন একাডেমী নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দেন প্রখ্যাত পল্লী উন্নয়ন গবেষক, দার্শনিক ও সমাজসেবক ড. আখতার হামিদ খান। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান নামে নামান্তরিত হয়।

অবস্থান ও আয়তন: মোট ১৫৭ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বার্ড ক্যাম্পাসে রয়েছে ৫টি হোস্টেল, ৪ টি কনফারেন্স কক্ষ, ২টি ক্যাফেটারিয়া, ১টি মসজিদ, ১টি গ্রন্থাগার ও ১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে কোটবাড়ীতে অবস্থিত। 

কার্যক্রম:  ১৯৫৯সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা পল্লীর দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করে থাকে।

লোকদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বার্ড ২,২০,৪১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দান করেছে। বর্তমানে গড়ে প্রতি বছর ১৫০-১৮০ টি প্রশিক্ষণ কোর্সে ৬,০০০ প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে থাকে।

পরিচালনা পর্ষদ ও অর্জন: বর্তমানে ৩৮৬ জন কর্মচারী বার্ডের জন্য কাজ করে থাকেন ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে বার্ড পরিচালিত হয় যার সভাপতি হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী ‍উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী। মহাপরিচালক একাডেমীর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যাকে একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও নয় জন পরিচালক সহায়তা প্রদান করে থাকে। একাডেমীর সমস্ত কর্মকাণ্ড নয়টি বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে যার প্রধান হিসেবে একজন করে পরিচালক দায়িত্ব পালন করেন। একাডেমী কর্তৃক উদ্ভাবিত পল্লী উন্নয়নের ‘কুমিল্লা মডেল’ এর জন্য বার্ড দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করে। এবং এর স্বীকৃতি স্বরুপ র‍্যমোন ম্যাগাসেস পুরষ্কার লাভ করে। পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বার্ড ১৯৮৬ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করে। 

বিবরণ: কার্যক্রম এবং ইতিহাসের বাইরেও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের জন্যও প্রসিদ্ধ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসেন। বার্ডের ভেতরে গেলেই দেখা মিলবে সবুজের সমারোহ ও পিনপতন নীরবতার যুগপৎ সমন্বয়। এখানের অতিথিদের থাকার জন্য রয়েছে ‘বন কুঠির, রানী কুঠির’ নামে বেশ কয়েকটি অতিথিশালা। নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে ভাড়া নিয়ে যে কেউই থাকতে পারবে এই চমৎকার কুটিরগুলোতে। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং বনভোজনের জন্য রয়েছে হলরুমসহ অন্যান্য আয়োজন। বিভিন্ন সময়ে এখানে নাটক এবং সিনেমার শ্যুটিংও হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে কার্যক্রমের জন্য তো বটেই, সৌন্দর্যের জন্যেও বার্ড অনন্য।

Ads
Ads