চাকরি নেই, সন্তানের জন্য দুধ চুরি করতে বাধ্য হলেন বাবা!

  • ১১-মে-২০১৯ ০৭:৪০ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবারের (৯ মে) ঘটনা। এক বেকার বাবা তার শিশু সন্তানের জন্য দুধ চুরি করেছেন। ধরাও পড়েন। এমনই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম। এ পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি এরই মধ্যে ভাইরাল। ঘটনার বিবরণ কাঁদাচ্ছে সবাইকে।

ডিএমপি সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলামের স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:

'গতকাল রাত আনুমানিক ৮.৪৫ মিনিট, বাকি সড়কে চেকপোস্ট ডিউটি তদারকি করছিলাম। হঠাৎ এক জায়গায় মানুষের হট্টগোল দেখতে পেলাম। ঘটনা কী তা দেখার জন্য আমার এক সাব-ইন্সপেক্টরকে পাঠালাম। কিছুক্ষণ পর বেশ কিছু লোক ২৫-৩০ বছর বয়সি একজনকে টেনে-হিঁচড়ে আমার সামনে নিয়ে এলো। ঘটনা জানতে চাইলাম। একজন বলল, স্যার লোকটা চোর, চুরি করে পালাচ্ছিল। পাশে লোকটাকে শক্ত করে ধরে রাখা এক সিকিউরিটি গার্ড আমাকে বলল, স্যার লোকটা স্বপ্ন সুপার শপ থেকে চুরি করে পালাচ্ছিল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী চুরি করেছে? সিকিউরিটি গার্ড বলল, স্যার, সে এক প্যাকেট দুধ চুরি করে পালাচ্ছিল। আমার খটকা লাগল। আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘দুধ’? তখন সিকিউরিটি গার্ড অতি উৎসাহ নিয়ে বলল, স্যার বাচ্চাদের ন্যান দুধের প্যাকেট। আমি লোকটার দিকে তাকালাম। আমার বয়সেরই হবে। দেখতে ভদ্রলোকই মনে হলো। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চুরি করলেন কেন? সে কেঁদে ফেলল। তারপর বলল, স্যার, তিনমাস হলো চাকরি নেই, বেতন নেই। ঘরে ছোট বাচ্চা, দুধ কেনার টাকা নেই।

সাথে সাথে আমার ছেলের চেহারা মনে পড়ল! মনে হল কতটা নিরুপায় হলে একজন বাবা এ কাজ করতে পারে! ওর জায়গায় আমি থাকলেও হয়ত একই কাজ করতাম। সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম, দুধের প্যাকেটের দাম কত? সে বলল, ৩৯০ টাকা স্যার। আমি তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিল রাখতে বললাম এবং লোকটিকে ছেড়ে দিতে বললাম।

আজ আমাদের দেশের এক অসহায় বাবা তার বাচ্চার জন্য দুধ চুরি করে। কত মানুষ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোচাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। হয়তো আমি ভালো চাকরি করে আজ ভালো আছি। কিন্তু সমাজের কত মানুষ আজ এ বাবার মতো নিরুপায়! এর দায়ভার কার?'

এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমার কাছে খুবই স্পর্শকাতর লেগেছে। নাম-পরিচয় রেখে তাকে ছেড়ে দেই। আমি যেটা করেছি মানুষ হিসেবে এমনটা করা খুবই স্বাভাবিক। আমি জানি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ দুধের প্যাকেট চুরি করবে না। তিনি মালিবাগের হোসাফ টাওয়ারের একটি মোবাইলের দোকানে কাজ করত। ইতোমধ্যে সেই ব্যক্তিকে সাহায্যের বিষয়ে অনেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আজ (শনিবার) রাত ৮টায় তাকে আবারও আমার অফিসে ডেকেছি। দেখি তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারি কি-না।’

Ads
Ads