কুমিল্লার সাদিয়া, যেভাবে সফল উদ্যেক্তা হয়ে ওঠলেন

  • ২৮-Apr-২০১৯ ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
Ads

:: মাছুম কামাল ::

প্রবাদে আছে, যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে। তেমনই একজন সাদিয়া হোসাইন। জন্ম ১৯৯৫ সালের ১০ই অক্টোবর, কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া সংলগ্ন বাগানবাড়ি এলাকায়। পড়াশোনা করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা নিয়ে। সাদিয়ার গল্পটা আট-দশটা গল্পের মত দুঃখবহুল কিংবা আটপৌরে নয়। আবার খুব ঝাঁ-চকচকেও নয়। মূলত, স্বাবলম্বী হয়ে, আত্মসম্মানবোধ নিয়ে বেঁচে থাকার গল্প এটি। স্নাতক শেষ করে একসময় চাকরি করেছেন কয়েকটি প্রাইভেট কোম্পানিতে।

আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতায় দেশের গান ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে পেয়েছেন স্বর্ণপদকও। পরে যখন স্নাতক শেষে বন্ধু-বান্ধবের অনেকেই খুঁজছেন চাকরি; কেউবা জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকেছেন অন্য কোনো পথে, তখন সাদিয়া স্বাধীন ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার জন্য চাকরি ছেড়ে চলতি বছরে বাসাতেই ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করেছেন ‘রসবাড়ি’ নামক মিষ্টান্ন এবং ঝাল জাতীয় খাদ্য-দ্রব্যের ব্যবসা।

মূলত খুবই ঘরোয়া পরিবেশে চার-পাঁচটি আইটেম নিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার ব্যবসায়ের পরিধি আরো বড় হচ্ছে। যোগ হয়েছে নতুন নতুন আরও অনেক আইটেমও। সাদিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমার এই উদ্যোগের পেছনে কাছের এবং পরিবারের লোকেদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছের কিছু বন্ধুরাও আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। তাদের সহায়তায় আমি সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাচ্ছি।’
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘নতুন হিসেবে ভালই সাড়া পাচ্ছি। আমি চাই মানসম্পন্ন পণ্য প্রস্তুত করতে, নিজের একটা ব্রান্ড দাঁড় করাতে চাই আমি’

কি কি পণ্য রয়েছে এবং বিক্রয় পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাদিয়া জানান, ‘আমার এখানে মোট ১০-১৫ আইটেমের মিষ্টান্ন এবং ঝাল জাতীয় খাদ্য দ্রব্য রয়েছে। সাধারণত, ‘রসবাড়ি’-এর ফেসবুক পেইজে/গ্রুপের কমেন্টবক্সে ঠিকানাসহ মেসেজ করলেই তিনি কুমিল্লা শহরের মধ্যে হলে ডেলিভারি ম্যান দ্বারা দিনে দিনেই পৌঁছে দেন। আর, শহরের বাইরে হলে কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

সাদিয়ার পণ্যগুলোর সবগুলোই একদম হাতে তৈরি বলে মান এবং গুনের ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তার পণ্য গুলোর মধ্যে মালাই চমচম এবং স্পঞ্জ এর রসগোল্লা সবচে' বেশী বেশী বিক্রি হয় বলে জানান তিনি। এগুলো ছাড়াও রয়েছে দই, কাঁচাগোল্লা, কারাচি হালুয়া, পায়েস, ফিরনি, পাটিসাপটা পিঠা, ডাবের পুডিং, ক্ষীরমালাই, চিকেন ফ্রাই, বুটের হালুয়াসহ বাহারি স্বাদের, মানের ও দামের পণ্য। দৈনিক গড়ে ৮-১০ কেজি পণ্যের অর্ডার পান তিনি। তবে তার আশা, কিছুটা প্রচার পেলে তার বিক্রয় আরও বাড়বে। 

চাকরি-বাকরি যখন ক্রমশ পরিণত হচ্ছে সোনার হরিণে, তখন এমন উদ্যোগই হতে পারে বেকারত্বের সমাধান। একই সাথে হতাশামুক্ত থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। সাদিয়াদের প্রয়োজন কিছুটা পৃষ্ঠপোষকতা। এ ধরণের তরুণ উদ্যোক্তারা যদি সফল হোন, তবে অনেকেই তাদের অনুসরণ করবেন। যা একই সাথে আনন্দের এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারদের জন্য কল্যাণকর।

Ads
Ads