স্বপ্নের পদ্মাসেতু: দৃশ্যমান হলো ১৬৫০ মিটার

  • ২৫-Apr-২০১৯ ১০:২৬ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::
 
স্বপ্ন পূরণে আরও একধাপ অগ্রসর হলো পদ্মাসেতু। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে যে স্বপ্ন বুনে চলেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ তা বাস্তাবায়নে আরও একটি স্প্যান সংযোজিত হলো। আর এর মধ্য দিয়ে পদ্মাসেতুর ১৬৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হলো। গত মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্তের ৩৩ ও ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়।

উল্লেখ্য, এ নিয়ে জাজিরা প্রান্তে নয়টি এবং মাওয়া প্রান্তে দুটি স্প্যান বসল। ইতোমধ্যে সেতুর প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে সেতু বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ‘এপ্রিল মাসে দুটি স্প্যান বসানো হয়েছে। মে মাসে আরও দুটি এবং চলতি বছরের মধ্যে সবকটি স্প্যান বসিয়ে সেতুটি দৃশ্যমান করে তুলব বলে আশা করছি।’ প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পদ্মাসেতুর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয়, ১০ মার্চ তৃতীয়, ১৩ এপ্রিল চতুর্থ, ২৯ জুন পঞ্চম স্প্যান বাসানো হয়। এরপর ২০১৯ সালে ২৩ জানুয়ারি ষষ্ঠ, ২০ ফেব্রুয়ারি সপ্তম, ২০ মার্চ অষ্টম ও ১৮ এপ্রিল নবম স্প্যান বসানো হয়। আর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টের ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে গত বছর এবং চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ১৩ ও ১৪ পিলারের ওপর দশ নম্বর স্প্যানটি বসানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১১তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মাসেতুর কাজ আর একধাপ এগোনোর সংবাদ আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি আনন্দজনক অনুভূতি। কেননা, এই সেতু নির্মাণ নিয়ে কম বাধাবিপত্তির মুখে পড়তে হয়নি। সেসব বাধা উপেক্ষা করে সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে, এটাই আমাদের জন্য বিশেষ কিছু।

ইতোমধ্যে সেতুর সাড়ে ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে, যথাসময়েই সেতুর কাজ যাতে শেষ করা যায় সেই প্রচেষ্টায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে। প্রসঙ্গত, সংশ্লিষ্টদের এটাও মনে রাখা সমীচীন, বিভিন্ন সময়েই নানা ধরনের প্রকল্পেই ধীরগতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। যথাসময়ে শেষ করতে না পারার দরুন ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে- যা প্রত্যাশিত ছিল না। ফলে সঠিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট সময়েই পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হোক এমনটি কাম্য। কেননা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে এ সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে। এই সেতু হলে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চল। চলবে ট্রেনও। এশিয়ান হাইওয়ের পথ হিসেবেও সেতুটি ব্যবহৃত হবে।

দেশের অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, পদ্মাসেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। এখন আমাদের প্রত্যাশা যথাসময়েই স্বপ্ন পূরণের এই সেতুর এক আনন্দঘন জমকালো উদ্বোধন দেখবে দেশবাসী।

Ads
Ads