শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলা: বিশ্বরাষ্ট্রকে আরও ঘনিষ্ঠ হতে হবে

  • ২৩-Apr-২০১৯ ১০:০৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ থেকে বিশ্ব যে এখনো সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেনি তার সর্বশেষ উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। বরং এই সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে আরেক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। এতদিন সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুুক্ত ছিল মুসলমান সম্প্রদায়ের কিছু বিপথগামী লোকই। বর্তমানে এর সঙ্গে যেন জড়িয়ে যাচ্ছে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও। যদিও এটা এখনো পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত। যেমন- কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আমরা যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখলাম তা ছিল অভাবিত। নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিপ্রিয় দেশে যা অকল্পনীয়ই। এর আগে আমরা দেখেছি ২২ জুলাই ২০১১ সালে নরওয়েতে এক খ্রিস্টান তরুণ ব্লগার অ্যান্ডার্স বেহরিং ব্রেইভিক কী করে গাড়িবোমা, কারবাইন, পিস্তল ব্যবহার করে একসঙ্গে ৭৭ জন মুসলমান নারী ও শিশুসহ হত্যা এবং ২৪২ জনকে আহত করে। সেই হত্যাকাণ্ড ছিল ব্রেইভিকের বক্তব্য অনুযায়ী আল কায়েদাসহ অন্যান্য মুসলমান সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতিক্রিয়ার ফসল। যা নিয়ে সে তার ব্লগে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লিখে আসছিল। যাকে সেই অপরাধের বিচারে পরবর্তীতে টানা ১০ সপ্তাহ বিচার চলার পর মাত্র ২১ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির আদালত।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় সেটাও তদ্রুপ প্রতিক্রিয়ার ফসল। এখন হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্টের বিচারকার্য চলছে। ঠিক তদ্রুপই শ্রীলঙ্কায়ও যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো সেটাও ওই ক্রাইস্টচার্চে হামলার প্রতিক্রিয়ার ফসল বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন। যারা হামলা করেছেন বলে দাবি করছেন তারাও একই কথা বলছে। তার মানে, জঙ্গিবাদে এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্পষ্টতই এই জঙ্গিবাদ এখন একইসঙ্গে সাম্প্রদায়িকও হয়ে উঠছে মনে হচ্ছে।

আগে যেটা ছিল না। আগে যেটা রাজনৈতিক ছিল বলেই গণ্য করা হতো। তার মানে এই সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ আরও ভয়াবহ। জঙ্গিবাদে যদি এমন সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠে তাহলে আধুনিক রাষ্ট্র মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এই ঝুঁকি থেকে মুুক্ত হতে হলে এখনই বিশ্বরাষ্ট্রকে আরও ঘনিষ্ঠ হতে হবে। শ্রীলঙ্কার ওই সাম্প্রদায়িক হামলা এখন বাংলাদেশকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় ধর্মীয় উপাসনালয়ে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা বাংলাদেশের উগ্রবাদী সংগঠনগুলোকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তবে সাংগঠনিকভাবে সংগঠনগুলো দুর্বল থাকায় নিকট ভবিষ্যতে তাদের বড় ধরনের কোনো হামলার সক্ষমতা নেই।

যদিও অনেক সংগঠন নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেটা এই মুহূর্তে আশঙ্কার কারণ নয়।’ আশঙ্কা না থাকলেও আমরা মনে করি, দুর্বলকে কখনো দুুর্বল ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সেকারণেই পর্যাপ্ত সতর্কতা ও প্রস্তুতির মধ্যেই থাকতে হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় ও স্বল্প জনঘনত্বের দেশ নরওয়ে, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে সন্ত্রাসী হামলা ঘটতে পারে, যেসব দেশের রাজনৈতিক কোনো হানাহানি, জিঘাংসা, বিভেদনীতি, পেশিশক্তি, গলাবাজি এসব নেই; সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনঘনত্বের দেশ বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই এমনটা ভেবে কারো কোনো তৃপ্তির ঢেকুর তোলার সুযোগ থাকতে পারে না বলেই মনে করি আমরা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, পূর্ণ প্রস্তুতি ও সতর্কতার কোনো মার নেই- এটা মাথায় রেখেই আমাদের রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি এগিয়ে নিতে হবে।        

Ads
Ads