দরপতনে পুঁজিবাজার: উদ্বেগ নিরসন করে আস্থা ফিরিয়ে আনুন

  • ২২-Apr-২০১৯ ১১:২৮ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

শেয়ার বাজারে শুধুই উত্থানের পর উত্থান ঘটেই চলবে পতন হবে না, এমন তো হতেই পারে না। উত্থান-পতন শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক চিত্র। তবে সেই উত্থান বা পতন যদি ঘটে কোনো এক অদৃশ্য হাতের কারসাজির ফসল হিসেবে ‘নিয়ন্ত্রিত’ উত্থান পতন তখন সেটাকে আর শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক চিত্র বলা যায় না।  গণমাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে শেয়ার বিক্রির চাপ চলছে পুঁজিবাজারে। এতে বাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এমনিতেই পুঁজিবাজার নিয়ে আমাদের অতীতে বিভিন্ন সময়ে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। কথায় আছে চুন খেয়ে মুখ পুড়লে পরে দই দেখলেও ভয় জাগে। সেকারণেই  এবারের একটানা দরপতনের নেপথ্যে কোনো গোষ্ঠীর কারসাজি আছে কি না- এবারও এ প্রশ্নটি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর এমনিতেই পুঁজিবাজারের অব্যাহত দরপতন অত্যন্ত উৎকণ্ঠাজনক। সেখানে এই দরপতন নিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত’ প্রশ্নটি সামনে এসে যায় তখন সেটি আরও বেশি উৎকণ্ঠার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

দেশের অর্থনীতিবিদরা ‘দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের উৎস হতে পারে পুঁজিবাজার’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও মান উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক সেমিনারে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ব্যাংকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ প্রত্যাশা করেন। অথচ বিশ্বের কোথাও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা নেই। অন্যান্য দেশে এ অর্থায়ন হয় পুঁজিবাজারে। ব্যাংক নির্ভরতা এবং ঋণ ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতেও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন হওয়া দরকার পুঁজিবাজারে। কেননা, অব্যাহত দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত পুঁজি হারিয়ে বসেন বিধায় বিষয়টি তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। ফলে এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। অন্যদিকে কৃত্রিম সঙ্কটের বিষয়টি সামনে আসায় এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। 

এদিকে দেখা গেছে যে, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দফায় দফায় বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করলেও বাজারের পরিস্থিতি আস্থায় আসেনি। অপরদিকে আগের ধারাবাহিকতায় বাংলা বছর শুরুর দুই কার্যদিবসের দুই দিনই দেশের বড় দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা ও চট্টগ্রামের সবকটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিনিয়োগকারীরা।  কিন্তু এই পদত্যাগের মধ্যদিয়েও কি পুঁজিবাজার আস্থায় আসতে পারবে? যদি না এই পুঁজিবার বারবার কেন অনাস্থায় পড়ে যায় তার কোনো কারণ চিহ্নিত করা যায়? বাস্তবতা হচ্ছে,  দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিপূর্বে নানান ঘটনা ঘটেছে। পুঁজি হারিয়ে অনেকে আত্মহত্যাও করেছে। আবার দুই নম্বরি করে কোটি কোটি টাকা লোপাটের ঘটনাও কম নয়। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করার পর শেয়ারবাজার চাঙ্গা হবে বলে মনে করেছিলেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বাস্তবে সেটা আর হলো কই। মনে রাখা দরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারালে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য বড় বিনিয়োগকারীদের ওপরও। কাজেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে হলে স্থিতিশীল শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে হবে। এটাকে যেন রাতারাতি মোটা অংকের টাকা বানানোর হাতিয়ার বানানো না হয়। 

Ads
Ads