শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৬

  • ২১-Apr-২০১৯ ০৩:২৪ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ দেশটির অন্তত ছয়টি স্থানে তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৫৬ জন নিহত ও ৫০০ শতাধিকের অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। মর্মান্তি এই ঘটনার পর জরুরি নিরপত্তা হিসেবে গির্জাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় রোববার (২১ এপ্রিল) সকালে রাজধানী কলোম্বো ও এর আশপাশের গির্জা এবং অভিজাত হোটেলে এ হামলা চালানো হয়।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বলেন, ইস্টার সানডের সকালে যেসব গির্জায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রোববারের এই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই।

ভয়াবহ এই বোমা হামলার পর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা এক বিবৃতির মাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী এই বোমা হামলার তদন্ত শুরু করেছে।

দেশটির গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যেসব গির্জায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে সেসব স্থানে দুই শতাধিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে বোমা হামলার ঘটনার পর জরুরি বৈঠকে বসেছেন।

শ্রীলঙ্কান সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উদযাপন করা হচ্ছিলো গির্জাগুলোতে। এর মাঝে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি চার্চে বোমা হামলা হয়। 

এর আধাঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্টিন চার্চ ও ২৫০ কিলোমিটার দূরে বাট্টিকালোয়ার জিওন চার্চেও বোমা হামলা চালায় দৃর্বৃত্তরা। 

এছাড়া রাজধানী কলম্বোর কিংসবারি, সাংগ্রিলা এবং সিনামোন গ্র্যান্ড হোটেলেও তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই হোটেলে অসংখ্য বিদেশি নাগরিক ছিলেন। 

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বলছে, পৃথক হামলায় এ পর্যন্ত ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন। আর ৫০০ এর বেশি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

এই ঘটনার পরে তাৎক্ষণিক কোনো পক্ষ এর দায় স্বীকার করেনি। ২০০৯ সালের আগে কয়েক দশক ধরে দেশটিতে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে সরকার পক্ষের যুদ্ধ লেগেই থাকত।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার মোট ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৭০ শতাংশ বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। সেখানে হিন্দু ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলমান ও ৭ দশমিক ৬ শতাংশ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী।

 

/কে 

Ads
Ads