সিরাজদিখানে শাহ্ জালাল ফকিরের ভূয়া কবিরাজী চিকিৎসার অভিযোগ (পর্ব-১)

  • ১৭-Apr-২০১৯ ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
Ads

:: সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি ::

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে কথিত শাহ জালাল ফকির (৪০) এর ভূয়া কবিরাজী চিকিৎসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে তিনি ভূয়া কবিরাজী চিকিৎসা করে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তার কাছে দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কবিরাজী চিকিৎসায় সুস্থ্য না হওয়ায় বেশ কয়েকজন রোগী তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন। এমনকি তার এই ভূয়া কবিরাজীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ায় স্থানীয় লোকজনদের মাঝে চাপা ও প্রকাশ্য ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই ভূয়া কবিরাজী চিকিৎসক উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব রশুনিয়া গ্রামের মৃত আঃ মান্নানের পুত্র। 

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব রশুনিয়া গ্রামে মৃত আঃ মান্নানের পুত্র তার নিজ বাড়ীতে চার পাশে টিনের বেড়া দিয়ে বানানো ছাপড়া ঘরের মধ্যে তার কবিরাজী চিকিৎসার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কবিরাজী চিকিৎসার জন্য একজন ক্যাশিয়ারও রেখেছেন তিনি। যে কিনা তার রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসার খচর রেখে থাকেন। শাহ জালাল ফকিরকে কবিরাজী চিকিৎসার বিষয় জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি এখানে সব ধরনের চিকিৎসা করি যেমন, জি¦ন ছাড়ানো, হার্টের রোগ, কিডনির রোগ, ব্লাড ক্যান্সার, যাদের বাচ্চা না হয় তাদের চিকিৎসাসহ ৭৯৬টা রোগের চিকিৎসা করে থাকি ও বিভিন্ন জি¦ন ভূতের আছর ছাড়ানো এবং মানুষের শরিরের বিভিন্ন জাদু টোনা বান কাটিয়ে দেই। তার চিকিৎসায় কতজন লোক সুস্থ্য হয়েছে এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশী লোককে আমার চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ্য করেছি। তার চিকিৎসার লাইসেন্স এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাইসেন্স করতে দিয়েছি থানায়! কার মাধ্যমে লাইসেন্স করতে দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইকবাল চেয়ারম্যানের কাছে দিয়েছি তিনি আমেরিকা থেকে আসলে লাইসেন্স করে দিবেন। ভাই আমার মূল কাজ হলো আমি জি¦ন নিয়ে খেলাবেলা করে থাকি এবং আমার কাছে অনেক বই আছে যা থেকে দেখে আমি মানুষের চিকিৎসা করে থাকি। তিনি জন্ডিস রোগের জন্য বোতলে করে একটি সিরাপও বিক্রয় করে থাকেন। যার অনুমোদন নেই বললেই চলে।   
 
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, ওই লোক যেহেতু চেয়ারম্যানের কথা বলেছে। হয়তো ট্রেড লাইসেন্স এর বিষয় হতে পারে। থানায় এধরনের কোন লোক আসেনি এবং থানা পুলিশ কাউকে কোন লাইসেন্স করে দেয়ও না। যদি থানার নাম বিক্রি করে কেউ স্বার্থ হাসিল করতে চায় তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। 

Ads
Ads