সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল: নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে

  • ১৫-Apr-২০১৯ ১০:০৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

এতকিছুর পরও সড়ক দুর্ঘটনার রাশ কোনোমতেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। আর টেনে ধরা যাবেই বা কী করে। এর জন্য কোনো কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকরের ব্যবস্থা থাকলে তো হবে। ফলে যেরকম ছিল সেরকমই চলে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার মহান স্বাধীনতা। যে কারণে প্রতিদিন সড়কে ঝরছে অকাতরে স্বপ্নের প্রাণ। এটা যেন নিয়ন্ত্রণের জন্য কারোরই মাথাব্যথা নেই। ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর লোভে এভাবে প্রতিদিন নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে চালানো হচ্ছে যানবাহন। ফলে মানা হচ্ছে না ট্রাফিক আইন। লাইসেন্সবিহীন চালক আর ফিটনেসবিহীন গাড়ি পাল্পা দিয়ে চলছে। আর এ কারণেই প্রতিদিন একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল লম্বা হচ্ছে। গতকালও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার একদিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

এর মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় একটি বাস খাদে পড়ে শিশু ও নারীসহ আটজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের বন্দর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, শেরপুর, বরগুনার পাথরঘাটা, মেহেরপুরের গাংনী, নেত্রকোনার মদন ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রতিদিন যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে, তার কারণ চালকদের বেপরোয়া মনোভাব। জয়পুরহাটে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির যাত্রীদের অভিযোগ, চালক বেপরোয়াভাবে বাস চালাচ্ছিলেন। শুধু বেপরোয়া গতিই নয়, সড়কে গাড়ি নিয়ে ওঠার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন অনেক চালক। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মালিবাগ এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান তুলে দেওয়া হয়েছে কর্তব্যরত এক এসআইয়ের ওপর। তিনি ওই কাভার্ডভ্যানটি থামার সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু চালক আইন মানতে চাননি।

তিনি কাভার্ডভ্যান তুলে দিয়েছেন এসআইয়ের ওপর। এসব নিয়ে চালকদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা কখনো কাজ করে বলে মনে হয় না। এমনকি যানবাহনের মালিকদের মধ্যেও মানবিক বিবেচনাবোধ কতটুকু কাজ করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজেই তা আসছে না। চালকদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব যতদিন থাকবে, ততদিন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যাবে না। দেশের বেশিরভাগ চালকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে চালকদের বেশিরভাগই উদাসীন। একই সঙ্গে নাগরিক হিসেবে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া দরকার, সেই দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে বেশিরভাগ চালকের।

আইন না মেনে চলার মানসিকতা তাদের বেপরোয়া করে তুলেছে। ফলে দুর্ঘটনা কোনোভাবেই হ্রাস হচ্ছে না। এই চালকদের বেশিরভাগই আসলে কোনোরকমে ড্রাইভিং শিখে, ভুয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করে গাড়ি চালাচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য চাপ তো আছেই। সব মিলিয়ে পরিবহন সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দুর্ঘটনার চিত্র এরকমই থেকে যেতে বাধ্য। কাজেই এ থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি প্রকৃতই দেশপ্রেমিক হয় তাহলে অবশ্যই তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যাতে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।

Ads
Ads