ইবি ছাত্রলীগের ১ বছরের কমিটি ২ বছরপূর্ণ, নতুন নেতৃত্বের দাবী!

  • ১৫-Apr-২০১৯ ০৭:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: এম এইচ কবীর, ইবি প্রতিনিধি ::

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক কমিটি দিয়েই পার হয়েগেল দুই বছর। 

জানা যায়, আজকের এই দিনে ২০১৭ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলা বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র শাহিনুর রহমান শাহিনকে সভাপতি ও একই বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মোঃ জুয়েল রানা হালিমকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটির অনুমোদন দেয় সোহাগ-জাকির কমিটি।
এই দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিসমূহ জেলা কমিটির মর্যাদা পাবে এবং কমিটির মেয়াদ হবে এক বছর। এক বছরের মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। আর এই সময়ের মধ্যে কমিটি না হলে কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এর সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। তারপর থেকেই ইবিতে ছাত্রলীগের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয় ও এ পরিস্থিতিতে নেতা কর্মীরা হতাশায় দিনাতিপাত করছে।

শাহিন-হালিম কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যর্থ হওয়ায় যেমন হতাশাগ্রস্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা তারচেয়ে বেশি হতাশা প্রকাশ করছে স্থগিতকৃত কমিটি বিলুপ্ত না করাতে। বর্তমান স্থগিতকৃত কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত সময়ে নতুন কমিটি হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন পদ প্রত্যাশীরা। 

এদিকে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত থাকায় ধীরে ধীরে কর্মীদের মাঝে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়ছে যা চরম আকার ধারণ করছে। নেতৃত্ব না থাকায় কেউ কাউকে পরোয়া করছেনা। যার দরুন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে ও রাতে সাদ্দাম হোসেন হলে দলীয় কর্মীদের মাঝে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় পদ প্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে শো-ডাউন দিচ্ছে ও শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা করছে। বর্তমান কমিটির কেউ ক্যাম্পাসে না থাকায় কোন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা এতে কর্মীরা হাতাশায় নিমজ্জিত।

পদপ্রত্যাশী ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, সময়মত কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি এই কমিটি। কমিটির নির্দিষ্ট মেয়াদ পার হয়ে গেছে অনেক আগেই। সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে স্থগিতকৃত কমিটি বাতিল করে নতুন নেতৃত্বের হাতে কমিটি দিয়ে ইবির মত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটকে গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

পদপ্রত্যাশী সাদ্দাম হোসেন হল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খাঁন সাগর বলেন, নিয়মানুযায়ী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। তাছাড়া কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি স্থগিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের বিকল্প নাই। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দ্রুত সদয় সিদ্ধান্ত কামনা করছি।                          

পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগকর্মী রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা মূল দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম দায়িত্ব এক্ষেত্রে বর্তমান কমিটি ব্যর্থ। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এর সত্যতা কতটুকু তা আমি জানিনা আর এর ভিত্তিতে কমিটি বহাল বা বিলুপ্ত এটা কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত। তবে যেহেতু কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি এক্ষেত্রে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ। আর কমিটির মেয়াদ যেহেতু শেষ এক্ষেত্রে আমিও নতুন নেতৃত্ব আশা করছি। নেতৃত্বের জ্যাম লেগে থাকুক তা আমি চাইনা।

পদপ্রত্যাশী তন্ময় সাহা টনি বলেন,  প্রায় ৬ মাস ধরে ইবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত থাকার কারণে কর্মীদের মাঝে চেইন অফ কমান্ড বলে কিছু নেই। যার ফলশ্রুতিতে লালন শাহ হল,সাদ্দাম হোসেন হল ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে নিজ কর্মীদের মধ্যে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও বর্তমান কমিটির মেয়াদও ১ বছর আগে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাই এই অচলাবস্থা কাটাতে ইবি ছাত্রলীগে নতুন নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি, নয়তো বিভিন্ন মহলের চাপে ছাত্রলীগ হুমকির মুখে পড়বে।

পদপ্রত্যাশী শাকিল আহামেদ (সুমন) বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। গত ২ বছর আগে ২রা বৈশাখ তারিখে ইবি ছাত্রলীগের ১বছরের জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।এই কমিটির যেমন কিছু সাফল্য আছে ঠিক তেমনি ব্যর্থতা ও আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ১ বছরের কমিটি ২ বছর অতিক্রম করলেও তা এখনও পূর্ণাঙ্গ করেতে পারে নি। এছাড়াও গত ৫ মাস যাবত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এমতাবস্থায় ইবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছে। যেহেতু বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে সেহেতু নতুন কমিটি হবে বলে আশা রাখি।বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের কাছে আমার দাবি থাকবে দ্রুত ইবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দিয়ে ইবিতে চলমান রাজনৈতিক অচল অবস্থার নিরসন ঘটাবেন।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিষয়ে জানার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 
তবে গত সপ্তাহে দৈনিক এক পত্রিকার ইবি প্রতিনিধির সাথে কথোপকথনের সময় বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে ইবি কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। 

Ads
Ads