জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একক ও দ্বৈতে শিরোপাজয়ী মৌমিতা রুমি ভীষণ হতাশ

  • ১৩-Apr-২০১৯ ০২:৫৯ অপরাহ্ন
Ads

ক্রীড়া ডেস্ক

আজ থেকে মাত্র ৩ দশক আগেও বেশ জনপ্রিয় ছিল টেবিল টেনিস। সাদি-কচি-রচি-এডিসনদের খেলা দেখতে ভিড় জমতো পল্টনের উডেন ফ্লোর জিমন্যাসিয়ামে। জোবেরা রহমান লিনু তো ছিলেন দারুণ জনপ্রিয়। ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন তিনি, বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। কিন্তু সদ্যসমাপ্ত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের একক ও দ্বৈতে শিরোপাজয়ী মৌমিতা আলম রুমি টেবিল টেনিসের ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণ হতাশ। সম্প্রতি ঢাকার একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এ হতাশার কথা জানান। 

কিন্তু টেবিল টেনিসের সেই সুদিন আর নেই। নতুন খেলোয়াড় তেমন উঠে আসছে না। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের টিটির প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। একসময় নড়াইলকে বলা হতো টেবিল টেনিসের সূতিকাগার। এই জেলা থেকে উঠে এসেছে অনেক খেলোয়াড়। কিন্তু নড়াইলেও টিটির তেমন জনপ্রিয়তা নেই এখন।

সদ্যসমাপ্ত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের একক ও দ্বৈতে শিরোপাজয়ী মৌমিতা আলম রুমি সেজন্য ভীষণ হতাশ। বড় ভাই আবু তাহের এডিসনকে দেখে টিটিতে পদার্পণ তার। জাতীয় প্রতিযোগিতায় চার বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, কিন্তু জীবিকা নির্বাহের জন্য টেবিল টেনিসের ওপর নির্ভর করতে পারেননি।

১৯৯৩ সাল থেকে টেবিল টেনিসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রুমি অনেক আক্ষেপ নিয়ে বলেছেন, ‘এত দিন ধরে টেবিল টেনিস খেলছি। কিন্তু ইদানীং আগের মতো উৎসাহ পাচ্ছি না। টিটির প্রতি কেমন জানি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। সেটা অবশ্য স্বাভাবিক। টিটি খেলে তো সেভাবে কর্মসংস্থান হয় না। আপনি যদি খেলে পরিবারই না চালাতে পারেন, তাহলে অটোমেটিক্যালি সেই খেলার প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা রুমি বর্তমানে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। কষ্ট হলেও চাকরির পাশাপাশি খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে রুমির বিশ্বাস, অনেকের পক্ষেই তার মতো কষ্ট করা সম্ভব নয়, ‘কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি টেবিল টেনিস খেলছি। কিন্তু সবাই তো আমার মতো পারবে না। সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য কোথাও টিটি খেলোয়াড়দের চাকরির সুযোগ নেই। তাও সেখানে নন-কমিশন্ড র‌্যাংকে চাকরি করতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা একজন খেলোয়াড়ের সম্মানজনক চাকরি প্রয়োজন।’

বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। শুধু জনপ্রিয়তা নয়, পারিশ্রমিক কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় ক্রিকেটের সঙ্গে অন্য খেলাগুলোর যোজন যোজন ব্যবধান। এ নিয়ে রুমির কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘যারা ক্রিকেট খেলে তারা তো অন্য কাজ করে না। ক্রিকেটের প্রতি যেমন সবার আকর্ষণ আছে, তেমনি ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধাও অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের খেলায় তা নেই। যদি থাকতো, তাহলে টেবিল টেনিস অনেক এগিয়ে যেতে পারতো।’

নিজ জেলা নড়াইলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এক সময় নড়াইল থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসতো। এখন আর সে অবস্থা নেই। ভবিষ্যত অনিশ্চিত হলে কোন বাবা-মা টিটি খেলতে দেবেন? আমরা শখের বশে খেলেছি, পাশাপাশি লেখাপড়া করেছি। কিন্তু সবাই তো আমাদের মতো হবে না।’

Ads
Ads