সৈয়দ আশরাফ কন্যাকে নিয়ে ফেসবুক জুড়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস

  • ৮-জানুয়ারী-২০১৯

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

পিতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর পর ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছেন তার কন্যা রীমা ইসলাম। তাকে নিয়ে বিভিন্নজন আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

কেউ কেউ তার রাজনীতিবিমুখতা, প্রচারবিমুখতার কথা উল্লেখ করেছেন। কেউ আবার উল্লেখ করেছেন, তার বাবা তার জন্য কোনো অর্থ সম্পদ রেখে যাননি।     

পিতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কফিনের পাশে বিমর্ষ বদনে দাঁড়িয়ে থাকা কন্যা রীমা ইসলামের একটি ছবি ফেসবুকে বিভিন্নজনের ওয়ালে দেখা যায়।

ঐ ছবিটিতে দেখা যায়, রীমা ইসলাম ও অন্যান্যরা গাড়ি থেকে পিতার কফিনটি নামাচ্ছেন। তিনি অশ্রু ভারাকান্ত নয়নে তাকিয়ে আছেন।  

গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে ছবিটি ফেসবুকের বিভিন্নজনের ওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন জন ছবিটি শেয়ার দিয়ে আশরাফ কন্যাকে সমবেদনা জানাচ্ছেন।  

তবে বেশিরভাগ সমর্থকেরাই চাচ্ছেন রীমা ইসলামকে যেনো উপ-নির্বাচনে এমপি প্রার্থী করা হয়।

রীমা ইসলামের আর কোনো ভাই-বোন নেই। আরও একবছর আগে ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর হারিয়েছেন মা শীলা ইসলামকে। আর এবার হারালেন বাবা সৈয়দ আশরাফকে।   

সৈয়দ আশরাফের পরিবার আগে থেকেই লন্ডনে বসবাস করতেন। সেখানেই তার কন্যা এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন। 

গত ৩ জানুয়ারি ৬৮ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সৈয়দ আশরাফ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। দেশে না থেকেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা) আসনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন সৈয়দ আশরাফ।

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও স্পিকারের কাছে শপথ নেয়ার জন্য সময় চেয়ে এদিনই তার চিঠি দেয়া হয়।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারিতে ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তিনি লন্ডনে চলে যান।

আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সৈয়দ আশরাফ।