বিশ্ব মিডিয়ায় শেখ হাসিনার বিজয়গাথা

  • ৩০-Dec-২০১৮

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রোববার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল ঘোষণাও শেষ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পঞ্চমবারের মতো এবং টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের সরকার গঠন ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনের পর নৌকার কাণ্ডারিদের এটাই সবচেয়ে বড় জয়। ৩০ ডিসেম্বর রাতে নির্বাচন কশিন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের ঘোষণা করা বেসরকারি তথ্য অনুসারে, ফলাফল ঘোষণা হওয়া ২৯৮টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫৯টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এমনকি মহাজোটের শরিকদের জয়লাভ করা আসনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জিতে আসা মোট আসন সংখ্যা ২৮৮টি। এরমধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০টি আসন পেয়েছে মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচনি জোটবদ্ধ দল জাতীয় পার্টি। 

বিরোধীদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ দল বিএনপি পেয়েছে ৫টি আসন। এদিকে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থেকে ২টি আসন জিতেছে গণফোরাম। 

এছাড়াও, মহাজোটের শরিক দল হিসেবে ওয়াকার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, বিকল্প ধারা ২টি, তরিকত ১টি, জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু) ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন ৩ জন।

দেশীয় গণমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি প্রভাবশালী এবং সুপরিচিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রধান শিরোনামে স্থান পেয়েছে শেখ হাসিনার বিজয়ের খবর। 

রোববার ভোট গ্রহণের দিনের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এবং বার্তা সংস্থাগুলোতে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হতে থাকে বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর। এদিন সন্ধ্যার পর থেকে নির্বাচনের বিভিন্ন আসন ও কেন্দ্রের ফলাফল আসতে শুরু করলে সেগুলোও প্রকাশ করে বেশকিছু গণমাধ্যম।

রোববার রাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয় এক প্রকার নিশ্চিত হলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রধান শিরোনামে প্রকাশিত হতে থাকে এ সংবাদ।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে চমকপ্রদ শিরোনাম দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘অবিশ্বাস্য’, আওয়ামী প্লাবনে খড়কুটোর মতো ভেসে গেল বিএনপি-জামাত জোট, বাংলাদেশে ইতিহাস।

কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রধান শিরোনামে শেখ হাসিনার বিজয় নিয়ে লেখা হয়- হাসিনা ‘বাংলাদেশ নির্বাচন জিতেছে’ যেখানে বিরোধীরা ভোট প্রত্যাখ্যান করে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবরের শিরোনাম হলো- শেখ হাসিনার বিজয় সুরক্ষিত যেখানে পুনঃনির্বাচনের দাবি বিরোধীদের। 

ভারতের এনডিটি এবং জি নিউজ বেশ গুরুত্ব সহকারে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিজয়ের খবর পরিবেশন করে। দুইটি গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটেই শেখ হাসিনার ‘বিজয় চিহ্ন’ সম্বলিত ছবি প্রকাশি হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে লেখা খবরে এনডিটির শিরোনাম ছিলো- নির্বাচন জয় শেখ হাসিনার।

জি নিউজের খবরের শিরোনাম ছিলো- শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে; পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি বিরোধীদের।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিজয়ের খবর প্রকাশিত করলেও নির্বাচনী সহিংসতা এবং বিরোধী পক্ষের ভোট বর্জন বা পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি উঠে আসে বিবিসি এবং দ্য গার্ডিয়ানের মতো সংবাদ মাধ্যমে।

ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন বিবিসির শিরোনাম হলো- পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি বাংলাদেশের বিরোধীদের। শিরোনামটির ‘কলার’ অংশে লেখা হয়- এক বিরোধী নেতা নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যায়িত করে সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ানের শিরোনাম ছিলো- ‘হাস্যকর’ বলে নির্বাচন বয়কট, পুনঃভোটের দাবি (বিরোধীদের)। 

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের খবর প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ডন এও। শিরোনামে না এলেও টেকনিক্যাল লিড হিসেবে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিলো- বাংলাদেশের শেখ হাসিনার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত; পুনঃনির্বাচনের দাবি বিরোধীদের।

এদিকে রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘বাংলার জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনে, এই স্বাধীন-সার্বভৌম নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর সব কৃতিত্বের দাবিদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সরকারপ্রধান হয়েও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হয়, তার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।’

তবে নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট।