ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

  • ১৯-Dec-২০১৮

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। খবর পেয়েছি তারা ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নির্বাচনে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে। নির্বাচনের ঠিক তিন চারদিন আগে প্রচুর অর্থ ছড়িয়ে নির্বাচনকে তাদের পক্ষে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ কারণে তাদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। বিএনপির সময় বাংলা ভাইয়ের উত্থান হয়েছিল। জঙ্গি, আগুন-সন্ত্রাস তাদের সঙ্গী। তারা ক্ষমতায় এলে আবার এগুলো প্রতিষ্ঠা পাবে।

বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির বাসভবন সুধাসদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পিরোজপুরের জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কোনো প্রচারণা নেই, কিছুই নেই। কিছু একটা ষড়যন্ত্র তারা করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা। বড়চোর, খুনি তো একটা বসে আছে লন্ডনে। সেখানে বসে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আর তাদের দোসররা আছে এখানে। তারাও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের কোনো একটা দুরভিসন্ধি আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমি বলব, কোন প্রেসে তারা জাল ব্যালট ছাপায় সেটা জনগণকে খুঁজে বের করতে হবে। নিজেদের গাড়ি ভেঙে, নিজের অফিসে আগুন দিয়ে আওয়ামী লীগের দোষারোপ করবে, এমন চক্রান্তে তারা ব্যস্ত আছে। তাদের আরো কিছু ষড়যন্ত্র করা বাকি আছে। আমি সবাইকে জানাব, খোঁজ নেন কোথায় তারা ফলস ব্যালট পেপার ছাপায়। তাদের অভ্যাস আছে। ২০০৬ এর যে ভোটার লিস্ট, সেখানে তারা এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটারের নাম দিয়েছিল। কাজেই এ ধরনের অপকর্ম করতে ওদের জুড়ি নেই। বিএনপি-জামায়াতই এসব পারে।’ আল-বদর, রাজাকারের স্থান বাংলার মাটিতে আর হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকা মার্কা ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে আমরা উন্নয়ন করেছি। প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পিরোজপুরে বিসিক শিল্পনগরী ও শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আমরা বিনা মূল্যে বই ও প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনা মূল্য ওষুধ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় একটি কলেজ ও একটি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছি। মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করতে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। অন্য কেউ ক্ষমতায় এলে সব প্রকল্প বন্ধ হতে পারে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সবার জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিতে নৌকায় ভোট দিতে হবে।

ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পিরোজপুর জেলার ২৯টি সংসদীয় আসনের আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন ও তাঁদের বক্তব্য শোনেন শেখ হাসিনা।