বাল্য বিবাহ বন্ধে একত্রে কাজ করতে হবে: ডিএনসিসি মেয়র

  • ১১-জানুয়ারী-২০১৯

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ভারপ্রাপ্ত মেয়র হাজী জামাল মোস্তফা বলেছেন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা সবাই একত্র হয়ে সমাজের সকল স্তরে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করতে হবে। আর এ জন্য বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশন নানা উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। আর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থা ইউনিসেফ ও বেশ কিছু দাতা সংস্থা এদেশীয় এনজিওগুলোকে অর্থায়ন করছেন। সোমবার রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরে স্থানীয় একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত “বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও প্রচারণামূলক সভা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিএনসিসি ভারপ্রাপ্ত মেয়র।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, বাল্য বিবাহ দেশ, জাতি এবং রাষ্ট্রের জন্য অভিশাপ। অনেক সময় নিরীহ মানুষ প্রভাবশালীদের চাপে ও প্ররোচনায় মেয়েদের বাল্য বিবাহ দিতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, ব্যাপক সচেতনতার পাশাপাশি আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরো বলেন, ডিএনসিসির সংরক্ষিত আসনসহ ৪৮জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তারা নগরবাসীকে সাথে নিয়ে কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষা এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ গড়ে তোলতে হবে। তিনি বলেন, নিম্মআয়ের লোকজন নগরীর বস্তিতে বসবাস করেন। সেখানে বাল্য বিবাহ এবং শিশু শ্রম প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। সব শিশুকেই শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে সরকারের চলমান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। জামাল মোস্তফা বাল্য বিবাহ বন্ধে সরকার নিয়োগকৃত নিকাহ রেজিষ্ট্রার অর্থাৎ কাজীদের সতর্ক করে বলেন, বিবাহ পড়ানোর আগে ছেলে- মেয়েদের বয়স যাচাই বাছাই করে নিতে হবে। অন্যথায় বাল্য বিবাহের অপরাধের জেলা এবং জরিমানা ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু ঘোষণা আর কথার মধ্যে সিমাবদ্ধ না থেকে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাঠে ময়দানে নামতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, বাল্য বিবাহের সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। এটা একটা মারাতœক ব্যাধি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনোর ৪২ শতাংশ ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিবাহ হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলতে হবে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি.জে. জাকির হাসান বলেন, এক সময় বাল্য বিবাহকে মানুষ অপরাধ মনে করতেন না। এমনকি তার (জাকির হাসান) মায়ের ১১/১২ বছর বয়সেই বিয়ে হয়েছে। তিনি ওই মায়ের সন্তান। তবে বর্তমানে তিনি নিজেও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষে কাজ করছেন।

ডিএনসিসির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা আলীর পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হাসান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবাশের হোসেন চৌধুরী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজ্জব আলী, ইউনিসেফের প্রতিনিধি তানিয়া সুলতানাসহ আরো বেশ কয়জন বাল্য বিয়ে নিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভাবে পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের দিয়ে ‘উত্তোরণ’ নামে দুইটি নাটক পরিবেশেন করা হয়।

জানা গেছে, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও কর্মকর্তারা ঘরোয়াভাবে নানা কর্মসূচির নামে দাতা সংস্থার অর্থের বিশাল অংকের ব্যয় করে যাচ্ছেন। ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগকে পাশ কাটিয়ে এবং মিডিয়াকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করেছেন কথিত প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানের নামে। বাস্তবে কাজের ফলাফল আশানুরুপ দেখা যাচ্ছে না বলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তারা কৌশলে গণমাধ্যমকেও অনেক সময় এরিয়ে যাচ্ছেন এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জনসচেতনামূলক অনুষ্ঠানে কেনো মিডিয়াকে দূরে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।