৩০ বছর পূর্তিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের শুভেচ্ছা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৩০ বছর পূর্তি হলো। ১৯৮৮ সালে ইরাকের দাঙ্গা মেটাতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের যাত্রা শুরু। সেই থেকে শুরু হওয়া বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তিরক্ষার মিশনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সারা বিশ্বেই প্রশংসিত হয়ে আসছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বৃহত্তম শান্তিরক্ষী সরবরাহকারী রাষ্ট্রের মর্যাদায় রয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মহিলা সদস্যের সংখ্যা ১৫৭। এই শান্তিরক্ষার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেলে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেছেন, মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি যখনই কোনো মিশনে যাচ্ছি, তখনই উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথা বলি। বাংলাদেশের নারী পুলিশের দল সোচ্চার রয়েছেন সামাজিক-সম্প্রীতি সুসংহত করতে। আমি সকলকে অভিবাদন জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় সকল কর্মকর্তাসহ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিকরা যোগ দেন।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ যে সারা বিশ্বের জন্য বিস্ময় হয়ে উঠবে এটা শুরুতে কেউ কল্পনা না করতে পারলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঠিকই বুঝেছিলেন বাঙালি পারবে। বাঙালির দ্বারা সব অসম্ভবই সম্ভব হবে। এর জন্য শুধু দরকার শোষক পাকিস্তানের রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা স্বাধীন অস্তিত্বের জানান দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যে স্বল্প সংখ্যক বাঙালি সেনা ও মুক্তিযোদ্ধারা একটি আধুনিক প্রশিক্ষিত বাহিনীকে পরাজিত করেছিল সেই বাঙালি তার নিজস্ব রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত বাহিনী হলে কতদূর যেতে পারে সেটার উদাহরণ আজ জাতিসংঘে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত আমাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। সেটারই স্বীকৃতি দিতে গিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে জাতিসংঘের চলতি ৭২তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি মিরস্ল্যাভ লাজ্যাক বলেন, শান্তি বিনির্মাণে দাঙ্গাপূর্ণ অঞ্চলে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশি রক্ষীরা এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। গত ৩০ বছরে ১৪২ জন বাংলাদেশি প্রাণ দিয়েছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আহত হয়েছেন ২২৩ জন। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেইসব প্রাণ উৎসর্গকারী বাংলাদেশিকে।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর এতোটাই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয় যে এর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৩০ বছরের ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুনে আমি অভিভূত। শুধু অর্থমন্ত্রীই নন, গোটা দেশের মানুষই আজ অভিভূত জাতিসংঘের শান্তি মিশনে থাকা বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যদের অভাবিত পারফরমেন্স নিয়ে। তারা যে শুধু দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেই বিশেষ ভূমিকা রাখছেন তা নয়, সেবা ও দায়িত্বশীলতার অনন্যতায়ও যে তারা বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় এগিয়ে এ তথ্য আমাদের জন্য আনন্দের তো বটেই, অপরিসীম গর্বেরও। এ পর্যায়ে আমরা আশা করি, আমাদের এই গর্বের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে নিয়ে প্রশংসা এখানেই থেমে থাকবে না, বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতেই থাকবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here