১২ সম্রাজ্ঞীর নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মাদক ব্যবসা

::ভোরের পাতা ডেস্ক::

রাজধানীর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে ৪৫ গডফাদার। এদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১২ জন। এদেরকে ‘গডমাদার’ আখ্যায়িত করে তালিকা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

এই তালিকায় রয়েছে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি থানার মাদক ব্যবসায়ী গডফাদারের নাম। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাদকের হটস্পট বলে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্প।

বাংলা মদ থেকে শুরু করে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোয়িন সবই পাওয়া যায় ওই এলাকায়। তবে এখন বেশি চলে ইয়াবা। বলা হয়, সন্ধ্যার পর এই এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা রীতিমতো ফেরি করে বিক্রি করা হয়।

ঘিঞ্জি বস্তি আর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এখানকার সব জায়গায় নজরদারি চালাতে পারে না। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এইএলাকার মাদক সিন্ডিকেট। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে ওই এলাকার মাদক ব্যবসার পেছনে বেশ কয়েকজন গডফাদারের নাম উঠে এসেছে।

এর মধ্যে অন্যতম ‘ইয়াবা সুন্দরী’ নামে পরিচিত পাপিয়া আক্তার ও তার স্বামী জয়নাল আবেদিন ওরফে পাঁচু। ইয়াবা ব্যবসা করে এই নারী অল্পকিছুদিনের মধ্যেই রীতিমতো বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছেন। জানা গেছে, পাপিয়ার সঙ্গে রয়েছে এক ঝাঁক নারী। এরা পাপিয়া ও তার স্বামীর কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করে।

এমনকি ক্রেতারা অর্ডার দিলে পৌঁছে দেন বাড়িতে গিয়েও। পুলিশ জানায়, পাপিয়ার সঙ্গে থাকা নারী বিক্রেতাদের মধ্যে শীর্ষ কয়েকজন হলেন- সীমা, নার্গিস, সয়রা, গান্নী, কালী রানী, বেচনি, সকিনা, কুলসুম ও রেশমা। মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী এলাকা পাপিয়ার মাদক ব্যবসার মূল আখড়া হলেও তার নেটওয়ার্ক দেশব্যাপী বিস্তৃত। চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা আনা হয় ঢাকায়।

চট্টগ্রামের হোসাইন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী তা পৌঁছে দেয় পাপিয়ার ভাসুর রাহীর কাছে। পরবর্তীতে পাপিয়া ও তার স্বামী পাচু মিলে তা ছড়িয়ে দেয় মাঠপর্যায়ে। সর্বশেষ গত ৪ ডিসেম্বর আদাবরের শেখেরটেকের শ্যামলী হাউজিং সোসাইটির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় পাপিয়াকে। এ সময় তার বাসা থেকে একটি পিস্তল ও লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইয়াবাও জব্দ করা হয়।

কিন্তু পরে জামিন নিয়ে আবার বেরিয়ে আসেন তিনি। পুলিশ বলছে, মোহাম্মদপুরের মাদক ব্যবসার আরেক সম্রাট ইসতিয়াক। ওই এলাকার অনেকেই আছেন ইসতিয়াকের চেহারা দেখেননি কিন্তু তার নাম জানেন। মাঝেমধ্যেই তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে করে মাদকের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে আসেন। থাকেন সাভার এলাকায়।

৩৫ বছর বয়সী ইসতিয়াকের জন্ম মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পেই। ছোটবেলা থেকেই চুরি-ডাকাতিতে বেশ পটু। হেমায়েতপুরে রয়েছে তার ১০০ কাঠা জমি। শুধু তাই না ইসতিয়াকের পার্সনাল সেক্রেটারিও রয়েছেন। নাম আদনান তানভির, যিনি নিজেকে কখনও মানবাধিকারকর্মী আবার কখনও সরকারি দলের নেতা পরিচয় দেন। এখন তিনি ইসতিয়াকের বাণিজ্যের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (গোয়েন্দা ও অপারেশনস) ডিআইজি সৈয়দ তৌফিক উদ্দীন আহমেদ বলেন, ঢাকায় মাদকের অন্তত ৩০০ ডিলার পর্যায়ের ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। অনেককে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারও করেছি। বর্তমানে গডফাদারদের নিয়ে একটি তালিকাও করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাটি এতই বিস্তারিতভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, গডফাদারদের বিরুদ্ধে কোন থানায় কতটি মামলা হয়েছে সেটাও উল্লেখ রয়েছে।

তবে অবাক করা বিষয় হলো, এই গডফাদারের তালিকায় সর্বোচ্চ সংখ্যাক মামলা রয়েছে এক নারীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা খিলক্ষেত থানায় ২২টি ও কদমতলী থানায় একটিসহ মোট ২৩টি। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যাক মামলা যার বিরুদ্ধে তিনিও একজন নারী।

তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১৮টি, তার সবগুলো মামলাই রূপনগর থানাতে। অন্যদিকে থানার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি মামলা আছে কামরাঙ্গীরচর ২৩টি, খিলক্ষেত ২২টি, রূপনগর থানায় ১৮টি।

সুত্র: হাজারীকা প্রতিদিন

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here