যে কারণে খালেদা জিয়াকে ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ বললেন ফখরুল

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সরকার নেত্রীকে ছাড়তে ভয় পাচ্ছে, তাই নানান রকম টালবাহানা করছে। এই হ্যামেলিনের বংশীবাদক যদি কারাগার থেকে বের হয়ে জনগণের মধ্যে নেমে আসেন, আবার বাঁশি বাজিয়ে ডাক দেন, তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই যে তাঁকে রোধ করে রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিমিয় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন, দেশনেত্রীকে চিকিৎসা দিতে, দেশনেত্রীকে বাঁচিয়ে রাখতে আপনাদের এত ভয় কেন?

তিনি বলেন, যিনি দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, পরবর্তীকালে রাজনীতিতে এসে দীর্ঘ নয় বছর চারণকবির মতো গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সেই তিনি আজকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। তিন তিনবার জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া খালেদা জিয়াকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়নি, তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না নিজের পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, এক এগারোর সময় শেখ হাসিনাকে যখন বন্দি করা হয় তখন তাঁকে আলাদা করে, বিশেষ ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে, ডেপুটি স্পিকারের বাসায় কেন রাখা হয়েছিল? কেন কানের চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাস্পাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, চিকিৎসার জন্য প্যারোলে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল?

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে, তারেক রহমানকে বিদেশে রেখে, বিএনপি এবং সবগুলো বিরোধী দলীয় নেতাদের জেলের মধ্যে আটকে রেখে আওয়ামী লীগ  নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকের এই সংকট খালেদা জিয়ার একার সংকট নয়, বিএনপির একার সংকট নয়, ২০ দলের একার সংকট নয়। এই সংকটকে সমগ্র জাতির সংকট অভিহিত করে দল-মত নির্বিশেষে জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে আন্দোলনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সর্বশক্তি নিয়োগ করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যারা ক্ষমতায় বসে আছে তাদের অপসারণ করতে হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ফখরুল বলেন, আমরা অবশ্যই চাই বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হোক। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণায় আমাদের সমর্থন আছে। কিন্তু মাদকের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানানো আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য বদিকে বাদ দিয়ে একরামুলকে কেন মেরে ফেলা হচ্ছে?

তিনি বলেন, মাদক নির্মূলের নামে সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা কেউই এই দেশে নিরাপদ নই।

ভোরের পাতা/ই

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here