সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নই প্রত্যাশিত

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রশংসনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দূরপাল্লার বাসে বিকল্প চালক রাখার ব্যবস্থা। গত সোমবার সচিবালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। দেশে যে হারে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা অব্যাহত রয়েছে তাতে করে দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজর এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। সম্প্রতি তিনি ঈদের প্রাক্কালে কানাডা সফর শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সড়ক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন। আর তাতেই পরিষ্কার হয় প্রধানমন্ত্রী এখন এ নিয়ে খুবই সজাগ।

প্রধানমন্ত্রী বিষটি নিয়ে এখন এতটাই সিরিয়াস যে, ওইদিনের বৈঠকের শুরুতেই তিনি সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করেন। বৈঠকে যে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি উঠে এসেছে তা হচ্ছে, সড়কে যে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে, তা কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ড্রাইভার ও হেলপারদের (চালকের সহকারী) উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। যারা দূরপাল্লার ড্রাইভিং করেন, সেখানে বিকল্প ড্রাইভারের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ একজন ড্রাইভারের গাড়ি চালনা একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি যেন না হয়। যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নিয়ম।

একজন ড্রাইভার দূরপাল্লায় ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাবেন না। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাস্তার পাশে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর সার্ভিস সেন্টার বা বিশ্রামাগার তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। যেখানে ড্রাইভাররা বিশ্রাম নিতে পারবেন এবং তাতে আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা থাকবে। আরেকটি দিক হচ্ছে রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে পথচারীদের অনিয়মতান্ত্রিক পারাপার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। রাস্তায় সিগন্যাল যেন চালু থাকে। লোকজন যেন সিগন্যাল মেনে চলে সেই ব্যবস্থা করা। জেব্রা ক্রসিং পথচারীদের জন্য অপরিহার্য করা। গাড়িতে যাত্রী ও চালক যেন অবশ্যই সিটবেল্ট পরেন। অর্থাৎ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনাকে কী করে আরো আধুনিক করা যায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমরা সময়োপযোগী বলে মনে করি। কেননা, আধুনিক ও উন্নত বিশে^র সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা এভাবেই চলছে। এখন এটা আমাদের দেশেও কার্যকর করা হলে আশা করা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় একটা লাগাম টেনে ধরা যাবে। এখানে আরেকটি বিষয় যোগ না করলেই নয়। সেটি হচ্ছে সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজিবিষয়ক।

আমরা মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এই চাঁদাবাজিও একটা অন্যতম নেপথ্য কারণ রয়েছে। কেননা গণমাধ্যমে প্রকাশ, পরিবহন মালিক বা চালকদের বিপুল পরিমাণ চাঁদা দিতে হয়। আর এই চাঁদা উত্তোলন করে থাকে সরকার দলের নেতৃবর্গই। তখন তাদের এই চাঁদার টাকা উসুল করতেই অতিরিক্ত ট্রিপ দিতে হয়। আর এই অতিরিক্ত ট্রিপ দিতেই তাদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে হয়। পরিশেষে সময়ে সময়ে যা পরে দুর্ঘটনা নিয়ে আসে। এখন আমরা চাইব, এই চাঁদাবাজিও যেন রোধ করার জন্য সরকারিভাবে জোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাহলে আরো অনেক অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে বলে মনে করি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here