স্বামী বিদেশ থাকলে ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রীদের কি করণীয়?

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

স্বামী বিদেশে থাকলে তার দ্বীন ও দুনিয়া বিষয়ক সকল কিছুর দায়িত্বশীলা হয় স্ত্রী।স্বামী ঘরে থাকতে যে দায়িত্ব সে পালন করে, সে ঘরে না থাকলেও অনুরূপ দায়িত্ব পালনে তৎপর থাকে।আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দ্বায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব-বিষয়ে (মিয়ামতে) কৈফিয়ত করা হবে। ইমাম (রাষ্ট্রনায়ক তার রাষ্ট্রের) একজন দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব-সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারে দায়িত্বশীল, সে সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মহিলা তার স্বামী-গৃহের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। চাকর তার মুনিবের অর্থের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব- বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।”(বুখারী ৮৯৩, ৫১৮৮ প্রভৃতি, মুসলিম ১৮২৯)

দায়িত্বশীলা আদর্শ স্ত্রীর দুই চেহারা হতে পারে না। তার মধ্যে মুনাফিকী, কপটতা ও প্রবঞ্চনা থাকতে পারে না। সামনে এক, পিছনে অন্য এক হাত হতে পারে না।

অদৃশ্যভাবে ঈমান বড় ঈমান। অদৃশ্যভাবে ভয় আসল ভয়। পিছনে শ্রদ্ধা প্রকৃত শ্রদ্ধা। পিছনের প্রশংসাই প্রকৃত প্রশংসা। স্বামী দূরে থাকলেও তাকে যে মেনে চলে, সেই হল খাটি স্ত্রী। মহান আল্লাহ এমন প্রশংসা করে বলেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللّهُ وَاللاَّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلاَ تَبْغُواْ عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا

পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।(সূরা-নিসা-আয়াত ৩৪)

নেককার সুন্দর একটি সন্তান পেতে কি করবেন? এবং স্ত্রী সহবাসের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সুন্নাত জেনে নিন!

নেককার সুন্দর একটি সন্তান দশটা বিপথগামী সন্তানের চেয়ে উত্তম। সকল দম্পতি তাদের দাম্পত্য জীবনে নেক সন্তান লাভের কামনা করে থাকেন। নেক সন্তান লাভে স্ত্রী সহবাস একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। নেক সন্তান লাভের উপায় কি? নেক সন্তান লাভ ও স্ত্রী সহবাসের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সুন্নাত এখানে তুলে ধরা হল –

১। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকতে হবে। ২। কোন শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত হবেন না ৩। মুস্তাহাব হলো “বিসমিল্লাহ” বলে সহবাস শুরু করা। ভুলে গেলে যখন বীর্যপাতের পূর্বে মনে পড়বে তখনি মনে মনে পড়ে নেবে। ৪। সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করাও আল্লাহর রাসূল [সাঃ] এর সুন্নত।

৫। দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা উচিত। উল্লেখ্য যে , ধুমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা। ৬। পর্দা ঘেরা স্থানে সংগম করবে। ৭। সংগম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার (চুম্বন, স্তন মর্দন ইত্যাদি) করবে। ৮। কোনোভাবেই কেবলামূখী না হওয়া। ৯। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই একেবারে উলঙ্গ হবে না।

১০। বীর্যপাতের পর ততক্ষণাত বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং স্ত্রীর বীর্যপাত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ১১। বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধারিত দোয়া পড়বে। কেননা যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সে শয়তানের প্রভাব মুক্ত হবে।

১২। নিয়ত ঠিক করুন। হযরত আলী (রাঃ) তাঁর অসিয়ত নামায় লিখেছেন যে, সহবাসের ইচ্ছে হলে এই নিয়তে সহবাস করতে হবে যে, আমি ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবো। আমার মন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াবেনা আর জন্ম নেবে নেককার ও ভালো সন্তান। এই নিয়তে সহবাস করলে তাতে সওয়াব তো হবেই সাথে সাথে উদ্যেশ্যও পূরণ হবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বুঝার এবং আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন। গ্রন্থনাঃ মাওলানা মিরাজ রহমান

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here