সাতক্ষীরাতে প্রধানমন্ত্রীর নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে জমি দখলের অভিযোগ

::সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::

সাতক্ষীরা সদরের রইচপুর এলাকার পলাশপোল মৌজার একশ একর জমি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত করেছে প্রশাসন। কয়েক যুগ ধরে দখলে থাকা জমি মালিকরা দাবি করছেন জোর পূর্বক তাদের ভোগ দখলীয় জমি দখল করে নিচ্ছে সরকার। দুই মাস আগে আকস্মিকভাবে সাইনবোর্ড টানিয়ে জমি দখলে নেয় প্রশাসন। জমির কাগজ দেখাতে গেলে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ভ্রাম্যমান আদালতের সাজা দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা খাতুন। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় জমি হারিয়ে পথে বসছেন অনেক জমির মালিক। ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন।

সিটি এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড প্রজেক্টের সত্বাধিকারী রহিমা খাতুন জানান, সাতক্ষীরা সদর ইউএনওকে আমারা জমির কাগজ দেখাতে গেলে তিনি কাগজগুলো না দেখে পুলিশ দিয়ে আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ধরে নিয়ে যায়। এরপর আমার ভাসুরের ছেলে, আমি ও আমার এক কর্মচারিকে ১৫ দিনের জেল দেয়। জমির সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্বেও আমাদের প্রায় দেড়শ বিঘা জমি জোর পূর্বক দখল করে নিচ্ছে প্রশাসন। তারা বলছেন, এ জমি সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তভূক্ত।
জমির মালিক মো. আসাদুজ্জামান সুমন বলেন, খতিয়ান যাদের নামে ছিলো তাদের কাছ থেকে আমরা এ জমি ক্রয় করি সাব কবলা রেজিষ্ট্রিমূলে। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এলাকার লোকজন সরকারি কিছু উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সাথে নিয়ে আমাদের জায়গা বলছে খাস। এই জায়গা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে, বিচারাধীন আছে সেই জায়গা কিভাবে দখল করে আমরা জানি না। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি কখন না জানি আবার ভ্রাম্যমাণ আদালত করে জেলে পাঠিয়ে না দেয়।

তিনি আরও বলেন, জমি ২০ বছর ধরে আমাদের দখলে সেখানে সিটি এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড প্রজেক্ট পরিচালনা করে আসছি। জমিগুলা ব্যাংকে মর্গেজ করা আছে, হাইকোর্টে কেস চলছে। এই জমির উপর আমাদের সংসার নির্ভরশীল। এখন সরকারের কিছু উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জমি খাস বলে দাবি করছে, জমির কাগজপত্রও দেখতে চাইছে না।

অপর এক জমির মালিক এস.এম গোলাম সরোয়ার জানান, ৩৩ একর ৬ শতক জমির মালিক আমি নিজে। জর্জ কোর্ট, হাইকোর্টের রায় ও ডিগ্রী আমার পক্ষে। বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এখান থেকে মাস খানেক আগে ডিসি, টিএনও, এসিল্যান্ড মহোদয় লুটতরাজ করে নিয়ে গেছে এবং এখানো করছে। মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, কর্মচারীদের মারপিট করছে।

আবু জাহের নামের এক জমির মালিক বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে আমরা ৭ বিঘা জমি ভোগ দখল করে আসছি। এলাকার আরো বিভিন্ন লোকের জমি হঠাৎ করে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে সাইনবোর্ড দিয়ে বলছে এটা খাস জমি, এভাবে দখল করে নেছে। আমরা এর সুষ্ঠ তদন্ত চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জুয়েল হাসান জানান, ইমান আলী সাহেবের একশ বিঘার উপরের এই জায়গাটা দেখে আসছি মৎস্য খামার করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছে। এখন থেকে দুই মাস আগে থেকে শুনছি সরকারি নাকি এই জায়গা খাস করে দিয়েছে। ব্যক্তিমালিকানা জমি কিভাবে খাস হয় সেটি আমি জানি না। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি এর যেন একটা সুষ্ঠ সমাধান দেয় তাদেরকে। তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কিছুদিন আগে তার ফ্যামিলির তিনজনকে সাজাও দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

জমির মালিকদের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও তাদেরকে ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন বলেন, সকল স্থানে সরকারি খাস জমিগুলো সরকার দখলে আনার চেষ্টা নিচ্ছে। এটা একটা বৃহৎ জায়গা এটা একশ একরের উপরে তিনশ বিঘা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আমরা রিপোর্ট পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুুসারে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য। সারা দেশে একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে তার মধ্যে আমরা সাতক্ষীরায় একটা করতে চাচ্ছি। জমির মালিক সরকার কেউ যদি জমি তাদের বলে দাবি করে থাকে তবে তারা স্পষ্ট ভূমিদস্যু এবং সাতক্ষীরার সকলেই জানে কারা ভূমিদস্যু।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইফতেকার হোসেন জানান, সেখানে ২৩ একর জমি নিয়ে ঈমান আলী গংদের সঙ্গে সরকারের একটি মামলা রয়েছে যা বিচারাধীন। এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না, আদালতের রায়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া এ জমির বাইরে কারো কোন কাগজপত্র নেই। বৈধভাবেই সরকারি খাস জমিগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে। কেউ বাঁধা দিতে আসলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। জমির মালিকদের একাধিকবার কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও কেউ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here